পোস্টগুলি

ধারাবাহিক আত্মজীবনী। কবি সুবীর সরকার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
  ৪৮. মানুষের জীবন জুড়ে কেবল গল্প আর গল্প। গল্প ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে যায় আমাদের জীবন। কত কিসিমের গল্প। যাপন কিংবা জীবন থেকে উঠে আসা গল্প। গল্পের কোন রকমফের থাকে না। কত কত দেখা, বিচিত্র সব রঙ্গিলা মানুষজন, গান বাড়ি তে ঘুরে বেড়ানো বাওকুমটা বাতাসের মতন তীব্র সব লোকগান। হায়রে জীবন ! দেখা ও না দেখা নিয়ে অদ্ভুত এক জন্মান্তর খুব নিবিড়তা নিয়ে আসে। সব গল্প যদি লিখে রাখা যেত।প্রেম ও প্রেমহীনতা নিয়ে যদি চলে যাওয়া যেত লন্ঠন নামিয়ে রাখা কোন হাটের খুব গহীনে! হয় না। একজীবনে সব হয় না। ৪৯. নিজের কিছু বই নিয়ে একটা তীব্র আবেগ থাকে। হাহাকার থাকে। আর্তি থাকে।স্মৃতি থাকে। বুঝি হওয়া ও না হওয়ার মাঝখানের শুন্যতার মত। এখানে দুটি বইয়ের কথা বলি। আসলে একটিই বই। পরেরটা তার পরিবর্ধিত অংশ। বইটি হলো - "নির্বাচিত কবিতা"। প্রথমটি ২০১২  তে। "কবিতা ক্যাম্পাস" থেকে। ২০১৩ র রাজশাহীর চিহ্ন মেলায় ৬১ কপি বিক্রি হয় বইটি। আমি নিজে সেই ঘটনার সাক্ষী। ঢাকা ও চিটাগাঙে বিক্রি হয় প্রায় ২৫ কপি। ২০১৪ তে ফুরিয়ে যায় বইটি। এরপরে ২০১২ র পরে প্রকাশিত বই থেকে কিছু কবিতা যুক্ত করে আরো বড় পরিসরে ...

ধারাবাহিকগদ্য

ছবি
  ৪৬. যে ইতিহাস আমরা পড়ি আসলে তো সেটা খণ্ডিত ও অর্ধসত্য ইতিহাস।আসল ইতিহাস তো চাপা পড়া ইতিহাস।বঞ্চিত মানুষের ইতিহাস।কিন্তু আমাদের ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা বারবার আমাদের প্রকৃিত ইতিহাসকে চাপা দিয়ে রেখেছে।ইতিহাসের আসল কুশীলব ভূমিলগ্ন মানুষ।কিন্তু তাদের কথা কেউ বলেন না। আমি আমার নিজের মতন করে সারাজীবন বঞ্চিত ও বিপন্ন মানুষের ইতিহাস খুঁজে চলেছি। আমার লেখালেখির জীবনেও একই ঘটনা।লিখতে আসবার শুরু থেকেই আমাকে চেপে বা থামিয়ে দেবার একটা চেষ্টা তো ছিলই। কিন্তু আমি নিজের লেখা নিজের পড়াশোনা নিয়ে নিজের মতন কাজ করছিলাম। অনেক অগ্রজ দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। কেউ কেউ কুকুর শেয়ালের মতন ব্যবহার করেছিলেন। পাশাপাশি পূণ্য শ্লোক দাশগুপ্ত,সমীর দা,অরুনেশ, নিত্য মালাকার,সন্তোষ সিংহ,অনুভব দা,নিখিলেশ রায়,ভগীরথ দাস,নীরদ রায়,বেনু দত্ত রায়,উত্তম দত্ত,নীরদ রায়,অর্ণব সেন,সমীর চক্রবর্তী,গৌতম গুহ রায় এবং আরও কয়েকজন আমাকে সাহস,পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে এসেছিলেন ধারাবাহিকভাবে। তাদের ঋণ সারাজীবন মনে রাখবো। ৪৭. ৫০ এ পা দিয়ে,একটা জায়গায় পৌঁছবার পরেও;এখনও আমাকে চেপে দেবার চেষ্টা আড়ালে আবডালে করা হয়।তারা আবার আমার সাম...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৪২.   প্রত্যেক মানুষের জীবন পূর্ণ হয় উপযুক্ত লাইফ পার্টনার পাশে থাকলে। যদিও আমাদের চারপাশে প্রচুর অসুখী দম্পতি। মুখোশ পরা যুগল। সুখকে সাইনবোর্ড করে ঘুরে বেড়ান তারা। আসলে লাইফ পার্টনার এর সঙ্গে একটা সহযোগিতার বিনিময়ের সুস্থতা গড়ে তোলা জরুরী। এখানে ব্যাক্তিগত ইগোকে প্রাধান্য দিলেই সমস্যা।   আমার জীবনসঙ্গিনী পম্পা রায়। সে কবিতা লেখে,গানের জগতের মানুষ।পেশায় শিক্ষক।সামাজিক কাজের কর্মী।   আমার সাথে পম্পার পরিচয় ২০০০ সালে।একটা গানের আসরে। ক্রমে প্রেমে পড়া। জড়িয়ে যাওয়া। স্বপ্ন দেখার মহড়া পরব।    আমি কবিতার মানুষ। আমি চূড়ান্ত স্বপ্ন দেখা মানুষ। সম্পর্ক রচনার সম্পর্কের অগ্রগতি সবের পেছনেই সংযোজক অব্যয়ের ভূমিকা পালন করেছে কবিতা, সঙ্গীত ও স্বপ্ন। ৪৩. ২০০৩ এ আমাদের বিয়ে হয়। সেই থেকে আজপর্যন্ত আমরা কিন্তু জড়িয়েই আছি। আমার অগোছালো জীবন,আমার তীব্র ঘুরে বেড়াবার জীবন, আমার সংশোধন আর কাটাকাটির জীবন, আমার লেখাপড়ার জীবনকে সবসময় তুমুল প্রশ্রয় দিয়ে আগলে রেখেছে পম্পা। আমি মানুষ ভালোবাসি। আমি লোকসঙ্গীত ভালোবাসি। বাড়িতে সবসময় মানুষের ভিড়। পম্পা...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৪০. সমস্ত জীবনভর আমাকে জাগিয়ে রেখেছে অজস্র বই আর বই। সেই সব পাঠ আমাকে পুষ্ট করেছে। জীবন চিনিয়েছে। আমাকে জাগরণ থেকে আরো এক নুতনের দিকে নিয়ে গেছে। যেমন-‘রম্যণি বীক্ষ্য’। লেখক শ্রী সুবোধকুমার চক্রবর্তী। খন্ডে খন্ডে তিনি বাংলায় ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন। এবং দ্বিধাহীন ভাবে বলতে চাই এটাই সত্য যে বাংলা ভাষার সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় ভ্রমণকাহিনি হল রম্যণি বীক্ষ্য। পড়তে পড়তে পাঠক চলে যান এক বর্ণিল ভুবনজোতের ভেতর। কেবল ভ্রমণ নয়।ভ্রমণের সাথে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস,পুরাণ,লোককথা,মিথ এবং ইতিহাসের মানুষজন।লেখকের কথা বলবার ধরণ এমনই যে একটা ঘোর এসে যায়। ঘোরের ভেতর গুড়ি মেরে বসে থাকে তীব্র এক অপেক্ষা। ৪১.    সম্প্রতি পাঠ করলাম ‘রম্যণি বীক্ষ্য’-র কোশল পর্ব।একটানেই পড়ে ফেলতে হয়েছে আমাকে।থামতে পারিনি কোথাও। কি সতেজ,কি প্রবলরকম এক টান এই লেখায়।শেষ না করে ওঠা যায় না!    মুখ্য চরিত্র গোপাল। সে উদাসীন। আত্মভোলা। সে কেবল ঘুরে বেড়াতে থাকে, ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে ইতিহাস আর পুরাণ জড়ানো জনপদের পর জনপদ। বহু বিচিত্র সব মানুষজন ও ঘটনার ঘনঘটা গোপালকে জড়িয়ে ধরে। আর সেই সব পাঠককেও অদ্ভূত উন্মনা কর...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৩৮. দেবেশ রায়। সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। কথাশিল্পী। এক অপরূপ কথোয়াল। অনেক বছর আগে দেবেশের 'দুপুর' গল্পটি পড়ে আমি চমৎকৃত হয়েছিলাম। তারপর একে একে দেবেশের লেখাপত্তরের গহিনে ক্রমে ডুবে যেতে থাকা। ইতিমধ্যে দেবেশ রায়ের অগ্রজ দীনেশ চন্দ্র রায় আমার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন। মাত্র 48 বছর বয়সে প্রয়াত দীনেশ চন্দ্র রায় বেঁচে থাকলে বাংলা সাহিত্য ঋদ্ধ হতো। তার 'ঐরাবতের মৃত্যু' গল্পটি এবং 'সোনাপদ্মা' উপাখ্যানটি বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। দেবেশের কথায় দীনেশ চন্দ্র বহুভাবে এসেছেন। দেবেশ ও দীনেশ তাদের কথনবিশ্ব জুড়ে কি এক দার্শনিক বিষ্ময় ছড়িয়ে দিয়েছেন। ৩৯. আচ্ছা মানুষ কি কখনো তার দেশ হারায়!জন্মমাটি,বেড়ে উঠবার যাপনভূমি ছেড়ে তাকে হয়তো চিরতরে নুতন এক দেশে চলে আসতে হয়। সেই দেশকে নিজের দেশ করে তুলতে হয়। কিন্তু মানুষ কিন্তু আদতে তার দেশ হারান না। তিনি তার অভ্যাসে, তার শরীরের পেশি ও মজ্জায় চিরদিনের সেই দেশকেই আমৃত্যু বহন করতে থাকেন। তাকে বহন করতেই হয়।এই তার নিয়তি। হারিয়ে যাওয়া দেশের নদী, বাড়ি,পথ প্রান্তর আর লোকগান খুব নিবিড় হয়ে বইতে শুরু করে, বয়েই যেতে থাকে তার অন্তর্গত রক্তস্রোতের...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৩৬। এই উপমহাদেশের অনেক গ্রন্থ পাঠ করে করে আমি পুষ্ট হয়েছি। সেই সব বইয়ের ভেতর দিয়ে যে গহিন এক জীবনবোধ,দর্শন ও সমাজভাবনার আলো আমাকে জাপতে ধরেছে তার থেকে আমি নিজেকেই খুঁজে নিয়েছি। খুঁজে পেয়েছি।নুতন হয়ে উঠেছি। তেমন কয়েকটি বইয়ের কথা এখানে বলেই ফেলি বরং। শহীদুল্লা কায়সারের সংসপ্তক, আবু ইশাকের সূর্য দীঘল বাড়ি,পদ্মার পলিদ্বীপ, সামসুদ্দিন আবুল কালামের কাশবনের কন্যা, ওয়ালীউল্লাহের লাল শালু , কাঁদো নদী কাঁদো, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, মাদারডাঙ্গার কথা, উত্তরের খেপ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, চিলেকোঠার সেপাই,পাপড়ি রহমানের পালাটিয়া, জাকির তালুকদারের পিতৃগণ, অমিয়ভূষণ মজুমদারের তাসিলার মেয়র, গড় শ্রীখন্ড, দুখিয়ার কুঠি,মধু সাঁধু খা, মহিষকুড়ার উপকথা, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের অলীক মানুষ, অমর মিত্রের ধনপতির চর ,কিন্নর রায়ের মৃত্যুকুসুম, ভগীরথ মিশ্রের মৃগয়া, দেবেশ রায়ের তিস্তাপুরাণ, তিস্তাপারের বৃত্তান্ত, অভিজিত সেনের দেবাংশী, পিযুষ ভট্টাচার্যের তালপাতার ঠাকুমা, বিপুল দাসের ভুবনজোতের বাঘ এই কটি বইয়ের কথাই আপাতত লিখলাম। এই সকল বই-এর ভুবনে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে এক অদ্ভুত শিহরণ আমাকে বিদ্ধ করেছে...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৩৪. দেওচড়াই হাটের গানের আসর থেকে হেঁটে হেঁটেই বাড়ি ফিরছিল সখীচরণ। হাতে ধরা ছিল সেই চিরপুরাতন বাঁশিটি। তরলা বাশের বাঁশি। ছয় ছিদ্রের। এই বাঁশির আওয়াজ শুনলে পাষানের বুকেও আবেগের উচ্ছাস জাগে। খুনীর চোখেও জল আসে। এমনই এই বাঁশির মহিমা। প্রায় তিন কুড়ির দু’চার বছরের কম সময় ধরে এই বাঁশি সখীচরণের সম্পদ। দেশ দুনিয়ায়,গা-গঞ্জের সকলেই সখীচরণের বাঁশির মহিমা জানে।হাটবারগুলিতে হাটের ভেতর এই কারণেই সখীচরণের অতিরিক্ত খাতিরদারী জোটে।শিঙ্গারা, জিলিপি, চা, সিগার সব মিলে যায়। খালি একটু বাঁশিতে ফুঁকে দেওয়া, আর কি। সখীচরণের বাবা ছিল এলাকার মস্ত গিদাল। তার ছিল গানের দল। পালাগানের দল। সবাই বলতো কালুচরণের দল। জোতদার জমিদার মাতব্বরের ঘর থেকে নিয়মিত বায়না আসতো।কালুচরণ ঘুরে বেড়াতেন গঞ্জের পর গঞ্জের পরিধী জুড়ে। মাঝে মাঝে সঙ্গে নিতেন ছোট্ট সখীচরণকে।তখন শুরু হয়েছে সখীর বাঁশি বাজানোর তালিমপর্ব।সেই সময় একবার সাহেবপোঁতার সুখেশ্বর দেউনিয়ার বাসায় গানের দল নিয়ে পালা গাইতে গিয়েছিলেন কালুচরণ তার দল নিয়ে।ছিল সখীও। বাচ্চা সখীচরণের বাঁশি শুনে দেউনিয়া সখীচরণকে উপহার দিয়েছিল এই বাঁশিটি। ৩৫. তারপর কত কত দিন পার হয়ে গেল। ...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৩২. যে কোন শিল্পচর্চায় একটা দর্শন থাকে।কবি,সাহিত্যকর্মী,শিল্পী সবাইকেই সমাজভাবনা তাড়িত করে।জাড়িত করে।শিল্পী তো একটা সমাজেই জীবনযাপন করেন।তার একটা দেশ থাকে।অগনণ মানবসমাজ থাকে।দেশকালসময়কে অস্বীকার বা উপেক্ষা করে কখনই শিল্পচর্চা হতে পারে না।তাই জীবনের আলো অন্ধকার জড়িয়ে শিল্পচর্চায় একটা সজীব সমাজভাবনা উচ্চারিত হতেই থাকে।তবে,তা সবসময় প্রকাশ্যে হয়তো ধরা পরে না।অর্ন্তলীন চোরাস্রোতের মত হয়তো প্রবাহিত হতে থাকে।অনন্ত স্বর ও প্রতিস্বরের মত বুঝি বা। আসলে জীবন নিয়েই তো শিল্পসাহিত্য।জীবনই তো উঠে আসে শিল্পকর্মের মাধমে।জীবনের পরতে পরতে জমে থাকা রহস্যগুলি,স্বেদবিন্দুগুলি শিল্পমাধ্যমে তীব্র ভাবে লেগে থাকে।জীবন দেখবার এক নুতন চোখ নিয়ে পাঠকেরা নিজেদেরকে খুঁজে নিতে পারেন।দর্শনের ঘোরে এক নুতনতর হয়ে ওঠা হয়ে ওঠে পাঠকের।আমি এখানে শিল্পচর্চার সাহিত্য মাধ্যমটিকেই বেছে নিয়েছি,তাই পাঠকপ্রসঙ্গের উত্থাপন। ৩৩. আমাদের সাহিত্যের বিশাল ক্যানভাস জুড়ে আবহমানের এক কালখন্ডের যাতায়াতে কি গভীর এক জীবনবোধ খেলে বেড়ায়।সমাজভাবনার জারণ ও বিজারণ দিয়ে এক অনন্য জীবনবোধ বারবার জেগে উঠতে থাকে কালের পরিসর জুড়ে।জীবনানন্দ দাস,...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
৩০. সেই বিশ ফরেষ্ট কুড়ি নদীর পৃথিবীতে ভরসন্ধ্যেতে আমরা দেখি হেমকান্ত হেঁটে চলেছেন।হয়তো কোন নদীর খেয়া ধরতে বা ভাঙা হাটের দিকে।জনমভর এভাবেই হেমকান্তর  হেঁটে চলা।সে হলো হাটাই।কেউ যদি তাকে প্রশ্ন করে তার হাঁটা নিয়ে,হেমকান্ত তখন একথাই বলে;এই হাঁটা কিংবা মাইল মাইল হেঁটে চলাটাই তার জীবন।নদী ফরেষ্ট গঞ্জ মানুষ নিয়ে এই যে দিনদুনিয়া এই ভেতরেই সে বেঁচে থাকে রোদ, বৃষ্টি আর মেঘের মতন। একটি সরকারী কাজে শীলতোর্সার উজানে হাতিডোবার চরে এক জুন দুপুরে হেমকান্তর সাথে দেখা হয়ে যায় রতন মল্লিকের।অদ্ভুত এই মানুষটি রতনের নজর কেড়ে নিয়েছিল।হেমকান্ত  রতনকে জানিয়েছিল সেই কত কত বছর আগে,তখন কোচবিহারের মহারাজা স্বয়ং শিকারে আসতেন এই কুড়ি নদী বিশ ফরেষ্টের পৃথিবীতে;মহারাজার হাতি ডুবে মরেছিল এখানে।সেই থেকে এটা হাতিডোবার চর।অনেক বছর বাদে হেমকান্তকে নিয়ে একটা গল্প লিখে পুরস্কার পেয়েছিলেন রতন মল্লিক। ৩১. জীবন জুড়ে গল্পের পর গল্পের ঢেউ।সেই সব ঢেউয়ের ওপর ভাসতে থাকে সমস্ত দেখা ও না দেখাগুলি।আমার কবিতার জোতজমিতে খুব একার এক একাকীত্ব রয়েছে।আসলে কবিতা তো চিরকালীন এক আবহমান গান হয়েই ঘিরে রাখে একজন কবিকে।ইথার তর...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
২৮. আষাঢ়ের আকাশ জুড়ে থরে থরে সাজানো মেঘের দলা।সেই মেঘ ও হাওয়াভরা আকাশের প্রেক্ষিতে কেমন এসে পড়ে বক্করের ঘোড়ার গাড়ি।আর সেই সজল চোখের সাদা কেশর ও তামাটেবর্ণ ঘোড়াটির ছুটে চলা আপনমনে,এ এক মায়ামেদুর দৃশ্যপট রচনা করে ফেলেই বা যেন।শালকুমার নাথুয়া কালপানি দেবির হাট আরো কত কত হাটগঞ্জের ধুলো ওড়াতে ওড়াতে বক্কর তার তামাটে ঘোড়াটিকে নিয়ে পরিক্রমণ করতে থাকে।এ এক চিরায়ত দৃশ্যখণ্ডই তৈরী করে ফেলে যা অগনণ মিথের সায়রে প্রান্তিক জনমানুষের ঘুম ও জাগরণে মিশে যেতে থাকে।মেঘলা আকাশের নিচ দিয়ে যেতে যেতে বক্করের শরীরে দুলুনি চলে আসলে সে তো আর নিজেকে গোলমরিচের বস্তার আরালে লুকিয়ে ফেলতে পারে না!সর্বঅঙ্গে তাই গান জড়িয়ে নিতে থাকে বক্কর,নিজেকে গানের খুব ভিতরে প্রবেশ করাতেই থাকে বুঝি বা- ‘চলে রে মোর ঘোড়ার গাড়ি রে ফাঁকা রাস্তা দিয়া আরে নউদারি নাইয়রিগুলান দেখি থাকে চায়া রে’ ২৯. জটিলার কথা খুব মনে পড়ে সোমেশ্বরীর।তার বাল্যসখী।একসাথে কত কত মুহূর্তযাপন তাদের।সেজবিলের বিস্তীর্ণ প্রান্তর,বাওকুমটা বাতাসের মধ্য দিয়ে অন্তহীন ছুটে চলা,অন্তেবুড়ির বাটা থেকে চুরি করে আনা মজা গুয়া,শশীবালাদের দলের সাথে বৈরাতী ও কু...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
২৬. আমাদের জীবনের ভেতর কি অসম্ভব এক মায়া!মায়ায় জড়ানো যাপন! কোন এক লোকমেলায় আমি দেখি শরীরে নাচ নিয়ে কন্ঠে গান নিয়ে হাতিডোবার নদীবাঁকে গানের পর গান।নাচের পর নাচ নেমে আসছে_ ‘গাও হেলানি দিয়া নাচ রে গোলাপী...' এই যে,এত এত দেখা আর মানুষের প্রতিদিনের বেঁচেথাকা;বেঁচেবর্তে থাকাটা আমাকে বিষ্মিত করে!মানুষ বেঁচে থাকে কেন!এই সংশয় আমাকে তাড়িত করে।প্রতিটি দেখা থেকে আমি নুতন করে অনুবাদ করে ফেলি আরো নুতন নুতন দেখাকে।জীবনের স্বাদ নিতে থাকি ক্লান্তিহীনভাবেই। একটা ঝুঁকে পড়া শীতকালের জন্য আমার মায়া ছিল।আমি তো জানিই যে হাটে কমলালেবু বিক্রি হয় সেই হাতে ঢেকিশাক বিক্রি হতে পারেই না।খেলনা বন্দুক দিয়ে আমি তো আর শিকারে যেতে পারি না।শহরে আবার ফিরে আসতে দেখি সেই সব পুরোন যাত্রা।সেখানে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলতে দেখি পার্ট ভুলে যাওয়া নায়ককে।  একইসঙ্গে বাদাম ও খুচরো পয়সা রাখি পকেটে।মেলা থেকে ফিরেই ফুটো করে দেই সমস্ত বেলুন।মৃত্যু আমার প্রতিপক্ষ নয়।স্বজনের জন্য আমার শোক খুব সাময়িক।হিজল একটি গাছের নাম হলেও আমি কিন্তু হিজলের ছায়ার কাছে কখনো যাইনি।ভাঙা সম্পর্ক থেকে তাই গান উড়ে আসে।এভাবেই লাইটার ও মোমবাতির ...

ধারাবাহিক গদ্য

ছবি
২৪। প্রাত্যহিকতায় দৈনন্দিনে ভোরের ভেতর জেগে উঠতে চাওয়া ভোরগুলির ভাঁজে ভাঁজে কেমনতর দেহতত্ব এসে পড়ে।তখন ফজরের নামাজ ভাঙে মোল্লাবাড়ির মসজিদে।জামাতের জমায়েত ভেঙে গেলে ভাঙা জমায়েতের টুকরোগুলির বিভ্রম থেকে ভ্রমবশত ভ্রামণিক লোকজতা বিনির্মিত হতে থাকে।কবেকার আভিজাত্য বনেদীয়ানা প্রাচীনতা নিয়ে মোল্লাবাড়ি যেন তার প্রবীণত্বকেই প্রতিধ্বনি ধ্বনির আবর্তে টেনে আনে।তামাকের হাট বল পাটাহাট বল গরুহাটি বল সব সবকিছুকেই মোল্লাবাড়ির চৌহদ্দীতে এনে ফেলতে হয়।কথিত আছে সেই কবেকার ওয়াহাবী ফরাজী খিলাফতের দিনগুলিতে মোল্লাবাড়ির রুকনুদ্দিন জয়নাব ইলিয়াস মইনুদ্দিনেরা দুধসফেদ ঘোড়া ছুটিয়ে চলে যেতেন দিকদিগন্তের পানে।মোল্লাবাড়ির ফরিদা ফুপু আঞ্জুমা নানীর ‘বিয়ের গীতের’ নিজস্ব দল ছিল যার কথা ৫০/৭০ মেইল ব্যাসার্ধের গ্রামগুলির পুরোন নতুন মানুষেরা প্রায় সকলেই জানে। ২৫। জানা অজানার পর্ব পর্বান্তর পেরিয়ে যেতে যেতে পটভূমির ভিতর মোল্লাবাড়ি ঢুকে পড়তে চায়;ঢুকে পড়ার পর্যাপ্ত অনুষঙ্গ প্রামান্যতা উপযোগী কিনা সেটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে যখন মোল্লাবাড়িই প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতজনের এক পটভূমি হয়ে উঠতে থাকে।পটভূমি কি স্থিরচিত্র হয়ে পটভূমি...
ছবি
২২। প্রকৃতির মধ্যে লিপ্ত থেকে সে নিজেই আদ্যন্ত প্রাকৃতিক হয়ে ওঠে প্রকৃতির প্রাত্যহিক প্রাকৃ্তের মতো।ধারাবর্ষণের মতো সে প্রকৃতির ভিতর নিজের প্রাকৃতিক সত্ত্বাকে প্রতিস্থাপিত করলেও প্রকৃতির বাইরেও চলে আসতে হয় তাকে একসময়।যদিও এটাকে প্রকৃতির ভিন্ন এক প্রাকৃতিকতা হিষাবেই সে দেখতে চায়।তার দু’হাতের বলিষ্ঠতায় সে বুঝি আঁকড়ে ধরতে চায় জিন্দাপীরের মাজার।পীরের মাজারে সে বুঝি চিরাগও জ্বালাতে পারে!তার এই যাপনযাতনার সন্ধিক্ষণে যেন মহামড়কের চিল ওড়ে,হন্তদন্ত শকুনের লালাভ চোখে জন্মজন্মান্তের এক ঘোর খেলা করে যায়।সে কি তবে মাজারমুখি রাস্তা বেয়ে যেতে থাকবে পোড়াকাঠ সংগ্রহের ব্যাগ্রতায়।প্রাকৃতিক হয়ে ওঠাটাকে সে নিজেই একধরনের রূপকথায় রূপান্তরিত করে নিতে চাইলেও গভীর কোন অপ্রাপ্তিজাত ব্যর্থতাবোধ তাকে কুরে খায়।সে আবহয়ান এক প্রকৃতির প্রাকৃতিক পর্বান্তরে কথান্তরে চলে যেতে চায়।তখন জ্যোৎস্নালোকে পীরের মাজার শোকসংগীতের মতো অন্তহীন খানাখন্দের জালকের জটে ঢাকা পড়ে যেতে থাকে।নিজের সকল সত্ত্বাকে প্রশ্নাতীত কোন নিরপেক্ষতায় দাঁড় করিয়ে দিতে চাইলেও সেই সাহস কি সে অর্জন করতে পারবে।গঞ্জমেলায় জিলিপির দোকানের সামনে দিয়ে আ...

ধারাবাহিক আত্মজীবনী। সুবীর সরকার

ছবি
১৯। চিলাপাতার হাটে ঢোল বাজাতে বাজাতে আমার নিকটবর্তী হয়েছিল জার্মান রাভা।আন্দুবস্তীতে হাড়িয়া খেতে খেতে কত কত বছর আগে জার্মান তার জীবনের নানাকিসিমের গল্প শুনিয়েছিল।কত কত বাদ্যগান মোরগলড়াই কবরখানা ধামসা মাদল!এক ফাঁকে জেনেছিলাম শিবজির বৃত্তান্ত,যাকে গিলে ফেলেছিল মেন্দাবাড়ির হাতি।মাঠে মাঠে ঘুরি।ছড়ানো রোদের মায়ায় ভরভরন্ত শীতকাল।নকসাদার।অপরূপ।প্রান্তিক সব গঞ্জবাজারে উত্তরজনপদের,নিম্ন অসমের নদীজলবাতাসে পুষ্ট হতে হতে কেমন এক চিরকালিনতাই এসে যায় বুঝি।কত সম্পর্ক।বর্ণময় এক জীবনই তো যাপন করি। অসমের গৌরীপুর।সাদা ফিতের এক নদি গদাধর।লাওখাওয়ার বিল।৩০০ বলির দূর্গাপূজা।রাজা প্রভাতচন্দ্র বড়ুয়া।রাজকুমার প্রমথেশ।লালজি রাজার গল্পগাথা।আর হস্তির কন্যা প্রতিমা বড়ুয়া।জনশ্রুতিতে ‘আজার বেটি’।গৌরীপুরের পথে পথে হাঁটি।পাগলের মত হাতি খুঁজি।সেই সব মাহুতফান্দীদের খুঁজি।আমার শরীর জুড়ে গোয়ালপারিয়া লোকগান।কাঠি ঢোল।মায়াময় এক জীবন নিয়ে আমার গতজন্মের ‘মাটিয়াবাগ রাজবাড়ি’।বিমল মালির বাজনা বাজে,বাজে সীতানন্দের সারিন্দা।প্রতিমা বড়ুয়ার গানের সুরে সুরে আমার আবহমানের অনুভুতিময় স্মৃতিকাতর কুয়াশাঘেরা জীবনের দিনগুলি জীবন্ত হয়ে ...

ধারাবাহিক আত্মজীবনী।। সুবীর সরকার

ছবি
১৭। কুয়াশায় হিম হয়ে থাকা বিশাল একটা মাঠ।সাদা পর্দা ঝুলছে।শীতের এক ম্যাজিক আছে।কুয়াশায় খোলা মাঠে দেখতে পাই সার্কাসতাঁবু।তাঁবু ঘিরে আলোর বন্যা।বাজনা বাজে।কনসার্ট হয়।অতিকায় জিপ লাফিয়ে পড়লেই হো হো হাসির সব জোকারেরা।এদিকে ট্রাপিজের খেলা।নেটফড়িঙ্গের মত লাফিয়ে পড়া খেলুড়েরা।ঘোড়াগুলি ছুটতে শুরু করে একযোগে।সার্কাস আমার প্রিয় অনুসঙ্গ।সার্কাস মানেই একটা জায়মানতা।বিস্তার হারানো নদীর উপাখ্যান শুনতে বসে যাওয়া। সমস্ত জীবন শীতকাল মানেই জানতাম বুঝতাম সার্কাস আসছে।আমাদের প্রান্তিক শহরে।শিশিরের শব্দের সাথে মিশে যেত বাল্যকালে ডোরাকাটা হলুদ বাঘের হুংকার যা ছড়িয়ে পড়তো সারা শহরে।শরীরে শিহরণ জাগতো।দিনের আলোর ভেতর ঘুরে বেড়াতো ‘নটরাজ সার্কাসে’র সেই সব বাচ্চা হাতির দল।আমরা হাততালি দিতাম। সার্কাসের ট্রান্সে জড়িয়ে জড়িয়েই কিভাবে বড়বেলায় চলে এলাম!বাঘ হাতি সব উধাও হল।কিন্তু সার্কাস থেকে গেলো।সার্কাসসুন্দরীদের মোমের মতন আঙুলে পিছলে যেতে থাকলো হেমন্তশীতের নরম আলো।এভাবে মায়া এলো।সুপুরিবনের ভেতর কারা বুঝি বিছিয়ে রেখে গেলো মস্ত একটা গানবাড়ি। ১৮। অনেক বছর পরে ‘আকন্দ সার্কাসে’র জোকার জিয়ারুলের সাথে সখ্যতা জমেছি...

আত্মজীবনী। কবি সুবীর সরকার

ছবি
১৫. আমাদের জীবনের ভেতর কি অসম্ভব এক মায়া!মায়ায় জড়ানো যাপন! কোন এক লোকমেলায় আমি দেখি শরীরে নাচ নিয়ে কন্ঠে গান নিয়ে হাতিডোবার নদীবাঁকে গানের পর গান।নাচের পর নাচ নেমে আসছে_ ‘গাও হেলানি দিয়া নাচ রে গোলাপী গোলাপীর পিন্ধনের শাড়ি গোলাপীকে দিমু না গোলাপীর হাতের খাড়ু গোলাপীকে দিমু না কমর হেলানি দিয়া নাচ রে গোলাপী’ এই যে,এত এত দেখা আর মানুষের প্রতিদিনের বেঁচে থাকা; বেঁচেবর্তে থাকাটা আমাকে বিষ্মিত করে ! মানুষ বেঁচে থাকে কেন ! এই সংশয় আমাকে তাড়িত করে।প্রতিটি দেখা থেকে আমি নুতন করে অনুবাদ করে ফেলি আরো নুতন নুতন দেখাকে। জীবনের স্বাদ নিতে থাকি ক্লান্তিহীনভাবেই। একটা ঝুঁকে পড়া শীতকালের জন্য আমার মায়া ছিল।আমি তো জানিই যে হাটে কমলালেবু বিক্রি হয় সেই হাতে ঢেকিশাক বিক্রি হতে পারেই না । খেলনা বন্দুক দিয়ে আমি তো আর শিকারে যেতে পারি না।শহরে আবার ফিরে আসতে দেখি সেই সব পুরোন যাত্রা।সেখানে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলতে দেখি পার্ট ভুলে যাওয়া নায়ককে।  একইসঙ্গে বাদাম ও খুচরো পয়সা রাখি পকেটে। মেলা থেকে ফিরেই ফুটো করে দেই সমস্ত বেলুন। মৃত্যু আমার প্রতিপক্ষ নয়।স্বজনের জন্য আমার শোক খুব সাময়িক।হিজল এক...

ধারাবাহিক আত্মজীবনী।। কবি সুবীর সরকার

ছবি
১৩. কত রকমের লেখাই তো লিখে গেলাম জনমভর।প্রায় ৩৪ বছর ধরে। ফিচার, গদ্য, বুলেটিন, ডায়েরি। কিন্তু যাই লিখি না কেন, যাই লিখে গেলাম সবকিছু পেরিয়ে আজ এটাই বুঝি আদতে আমি জনমভর কেবল কবিতাই লিখে গেলাম। একটি দীর্ঘ কবিতাই লিখে চলেছি যা আজও শেষ হয়নি। আচ্ছা, সত্যি এমন কোন সংশয় কি জাগেনি কিংবা এমন কোন প্রশ্ন তৈরি হয়নি কি, সেইসকল প্রশ্ন কি তাড়া করে বেড়ায় নি আমাকে; যে কেন কবিতা লিখি!কেনই বা কবিতা লিখবার এক জীবন কুয়াশার সফেন সমুদ্রে ডুবিয়ে মারলো আমাকে! কেন কবিতা লিখি তার কোন সোজাসাপটা জবাব নেই।আমি অন্তত খুঁজে পাইনি। পাইনা। এটাই বুঝি, মানুষ যেভাবে গল্পের পাকে পাকে জড়িয়ে যায় ঠিক সেভাবেই আমাকে জড়িয়ে যেতে হয়েছে কবিতার তীব্র এক পাকে পাকে। অভিশপ্ত আমি । এই জীবনে আর কবিতা থেকে পরিত্রাণ নেই আমার।এই নিয়তি আমি মেনেও নিয়েছি।আমার তুমুল আনন্দ হয়েছে এই কবিতার যাপনের জন্য।মরণঅবধি তাই কবিতাই তো লিখে যাবো।এটা চিরসত্যের মতো, না ফুরোন লোকসংগীতের মতো।অমোঘ। চিরন্তন। ১৪. কি লিখি কবিতায় ! কেন লিখি কবিতা!আসলে তো আমি কবিতায় জন্ম লিখি, জন্মান্তর লিখি। আমি যে জীবন দেখি, যে জীবন যাপন করি,আমার সব ও সমস্ত দেখাগুলিকে আম...

ধারাবাহিক আত্মজীবনী

ছবি
১১. এক হয়ে যাওয়াটা আসলে ম্যাজিকের মত।বুকের ভেতর বল্লম গেঁথে দেয় কতজন।কত কুৎসা বেলুনে ভরে আকাশে উড়িয়ে দেয় কত তথাকথিত স্বজন।যাকে বা যাদের খুব বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরেছিলাম তারা আমাকে কান্না উপহার দেয়।কষ্ট উপহার দেয়।উদ্বেগ উপহার দেয়।সমস্ত কবিতা জীবন কেবল অভিশাপ বহন করেছি আমি।দন্ডিত হয়েছি বারবার।কি আর করার।সমস্ত জীবন কেবল লড়াই আর লড়াই।খুব বুঝি খারাপ একজন মানুষ আমি!কিছুই পারি নি জানি।কেবল ভাঙা হাটের লণ্ঠন হয়ে একটা স্বপ্নের যৌথতায় আশ্রয় চেয়েছিলাম।বিগত এক মাস আমার জীবনে কোন শুশ্রূষা নেই।বাদ্য ও বাজনা নেই।খুব একা আমি।কিন্তু লড়াই জানি।ভাঙা ঘরবাড়ি দ্রুত সারিয়ে নিতেও জানি।সামলে নেব সব আমি।আবার রক্তচাপ স্বাভাবিক হবে আমার।ভাঙা শরীরে গান গাইবে বাংলার শালিক পাখি।আমি আর শৌভিক চলে যাবো ডুয়ার্সের জঙ্গলে।বড় কষ্ট এই জীবনে।এত একা হয়ে গেলাম কেন! ১২. ৫০-এ পা দিয়ে আমি উপহার পেলাম উচ্চ রক্তচাপ।নানারকমের উদ্বেগ আর ফোবিয়া আমাকে ঘিরে রেখেছিল।কাউকে মন খুলে বলতেও পারছিলাম না।নিঃসঙ্গতার ভয়,অসুখবিসুখের ভয়,মৃত্যুচিন্তা,সম্পর্ক ভেঙে যাবার ভয়,একা হয়ে যাবার ভয়।কবিতা লিখতে পারছিলাম না।এর মধ্যে আমার সবচেয়ে কাছের ...
ছবি
আমার কবিতাজীবন : নদীর জলে কান্না মিশে যাওয়ার এক জীবন    ৯. তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র।রোগাপাতলা আমি একটা ভাঙা সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াই শহর,শহরপ্রান্ত,গঞ্জে।কাঁধের ঝোলায় জীবনানন্দ,ভাষ্কর, আল মাহমুদ,শামসের আনোয়ার,অরুনেশ থরে থরে সাজানো।খোলা মাঠে,সোনালি হেমন্তের রূপমায়ার ভেতর আমার সাইকেল ঢুকে পড়ে।আমি নরম রোদে বসে কবিতার বই পড়ে ফেলতে থাকি।জীবনানন্দের বোধ এক ঘোর বিছিয়ে দেয়।অন্তহীন এক স্বপ্নের বুদবুদ আমার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে।আমি কবিতার কাছ থেকে উপহার পাই এক অভিশপ্ত ও ভুতগ্রস্থ  জীবন।এরপর কিছুটা সময় পেরিয়ে শুরু করি বিশ্ব কবিতায় বিচরণ।নিজেও লিখতে শুরু করি।জেলায় জেলায় নুতন বন্ধুদের সাথে শুরু হয় চিঠির পর চিঠির আড্ডা।কত স্বপ্নের কথা জুড়ে থাকতো সেই সব চিঠিপত্র জুড়ে।এভাবেই নিজেকে নির্মাণ আর বিনির্মাণের টানেল ঢুকিয়ে দিতে থাকি। ১০. চারপাশের সমস্ত অসুখ,সমস্ত অস্থিরতা,সমস্ত কালো সবসময় আমাকে নাড়া দেয়,নাড়িয়ে দেয়। বিচলিত করে তোলে। সে 1986 কিংবা 2020 হোক। মানুষের অসহায়তা,বিপন্নতা,দেশকালের যাবতীয় কালো কেমন অসহায় করে তোলে। কিন্তু কি আর করতে পারি আমরা। বড় ক্ষুদ্র আমরা। শক্তিহীন। কলম ছাড়া আর...
ছবি
আমার কবিতাজীবন : নদীতে মিশে যাওয়া কান্নার জীবন ৭. অনেক অনেক বছর আগে একটা সাহিত্যের আসরে গিয়েছিলাম তরাইএর এক শান্ত জনপদে।সেখানে পরিচয় হয়েছিল রণেন বাবু,কল্যাণ দে, নৃপেন বর্মণ দের সাথে।তখন সদ্য লিখতে এসেছি।পরিচয় ও বিনিময় হচ্ছে কত কবি,সাহিত্যিকের সাথে।কত ছোট পত্রিকার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠবার পর্ব তখন।নৃপেন বর্মনের সাথে পরদিন চলে যাই ওর গ্রামের বাড়ি।নৃপেন আমার বন্ধু হয়ে ওঠে।নৃপেনের বাসা ভর্তি বই এর পত্রিকার সবিপুল সমাবেশ।সারা বাংলা ভাষায় কত তরুণের বই পেলাম সেখানে।জানতে পারলাম।নৃপেনের সঙ্গ আমার স্বপ্ন ও ক্ষিধেকে উস্কে দিল।আমি বাংলা কবিতার ভেতর খুব ঢুকে পড়তে থাকলাম গুড়ি মেরে।নৃপেন ঘুরিয়ে আনলো টুকুরিয়ার জঙ্গল।আমাকে শোনাতে থাকলো কানু সান্যাল ও জঙ্গল সাঁওতালদের গল্প। ৮. 'সুপুরিগাছের মাথা থেকে সরে যাওয়া রোদ                                               আমার প্রেমিকা' পৃথিবীতে কত মানুষের ডাকনাম নেই। আমার কান্না দেখে ফেলে পুকুরের হাঁস অথচ ভাঙা বিষদাঁত নিয়েই বেঁচে থাকে কত ...