পোস্টগুলি

চা পাতা সাপ্তাহিক।। সংখ্যা ৪২ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সম্পাদকীয়। চা পাতা। ৪২

ছবি
সম্পাদকীয়  জীবনের লক্ষ্য কি? এই প্রশ্নে সবাই নিজের মতো করে আলাদা আলাদা  উত্তর দেবেন, এটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু সবগুলো উত্তরকে বিশ্লেষণ করলে যে সারকথাটি বেড়িয়ে আসবে সেটি হল আনন্দ প্রাপ্তি। জীবনের লক্ষ্য আনন্দ প্রাপ্তি।  কবিতাও হয়তো মানুষ এই জন্যই লেখে। অনেকেই বলে কবিতা লিখে কিরকম আসে? আসেনা শুনলে মুখ বেজার করে, বলে কেন লেখো তাহলে এসব, এত বই পত্রিকা এতকিছু,  এত কলকাতা - শিলিগুড়ি - কোচবিহার সব মাগনা! তাদের বলি তুমি সারাদিন খেটেখুটে বাড়িতে সবার মুখে হাসি তুলে দিয়ে যে আনন্দটুকু পাও,  আমরা হয়ত সেই আনন্দটুকু পাই না।  তবে আমাদের পাওয়া আনন্দটা, তোমার মতো আনন্দ না পেয়ে আমাদের যে দুঃখ, তারপাশে রাখি। আমরা একটা বিক্রিয়াজাত আনন্দের ভাগিদার হই । আর বেঁচে থাকি।    

শৌভিক রায়।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
শৌভিক রায়   একটি সুইসাইড নোট - ২ জল ভাঙি, অতলে যাই নামছি নীচে, নীচেই অতল জানব বলে গভীরে আরও জলের নকশায়, জল কেবল অতল ডাকলে অনন্ত সাথী জল কেটে ঊর্ধ্ব মুখ জল টান... টান... নামি জলে, অতলে... ধুকপুক জীবন রয়ে যায়, বিষন্ন চেতনায় ভালোবাসি এই জীবন...জল জীবন অতল জীবন, চলি তোর কাছে

শান্তনু পাত্র।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
শান্তনু পাত্র পরি ***** ওগো পরি, ভিক্টোরিয়া থেকে উড়ে এসো আমার বিছানায় সাদা চাদরের ভাঁজে, কৃষ্ণকলি রং কেমন আছো? পুরানো কন্যে। আমার ঠোঁটের থেকে এই আলো যা কিছু নিয়েছ শুষে, অন্তরালে কী বলবে বলো, দীর্ঘ বিচ্ছেদে আমার বহন, আলাপ, সমাপন নদী পাড়ে গড়ে ওঠা গ্রাম, পোড়াগ্রাম। শরীরে শরীর জড়িয়ে এই অন্ধকার মায়া পাপড়ির মতো, অতিধীর মৃদুমন্দ, নীরব আওয়াজে তখনও তো রোদ খুলেছিল! তোমার অপেক্ষা, ছাতার মতো, আদর পরম মুঠো খুলে মেপে নিও, হাতের গরম।

বিদ্যুৎ রাজগুরু।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
বিদ্যুৎ  রাজগুরু   চাঁদ উঠেছে টোটো পাড়ায়  চাঁদ উঠেছে টোটোপাড়ায় হলুদ মেখে গায়ে, জ্যোৎস্না রাতে ভিজে এলাম চাঁদের দিকে চেয়ে। নদীর বুকে পাথরনুড়ি বোঝাই করা আছে, যন্ত্রণায় সে বুক বেঁধেছে জল নেই তো কাছে। ভরা নদী নেইকো এখন জলের যেন ছুটি, পাথরনুড়ি নদীর বুকে করছে লুটোপুটি। পাখ-পাখালির কলকাকলী সবুজ বনে বনে, জীবন চলে আপনমনে নদীর কথা শুনে। সবুজ মোড়া টোটো পাড়া সব ঋতুতে সাজে, আকাশ ছুঁয়ে সবুজ ওড়না বুক ঢেকেছে লাজে। আদিম আলোর পিদিম জ্বলে তোমার সবুজ প্রাণে, লাজুক নয়নে তোমায় খুঁজি নতুন দিনের গানে৷ বর্ষা এলে ঝরনা গুলো যেন জলের গয়না, হাওড়ি-তিতি-বাংড়ি নদী ধরে জলের বায়না। রঙ ধরে যে কমলাবনে শীতের হাওয়া ছুঁয়ে, আকাশছোঁয়া পাহাড়চূড়া মেঘের স্তম্ভ নুয়ে। সন্ধ্যা নামে টোটো পাড়ায় ঝিঁঝিঁর ডাক শুনে, মনের কথা বলে এলাম তোমার কানে কানে।

কৌশিক চক্রবর্ত্তী।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
কৌশিক চক্রবর্ত্তী  বৈপরীত্য  মায়ের আদুল গা ….. নিরাকার শক্তিস্তম্ভ অদৃশ্য ধমনী বেয়ে রোমকূপের ডগায় ডগায়। জানা নেই .... মেরুদণ্ডের ভিত জমা রাখা আছে কামারশালায়। কাশফুলের বিপরীতে ধানের শিস্ ; লড়াইটা মজ্জাগত, অবচেতন নবাঙ্কুরে। শিলের ওপরে নোড়ার আঘাতে পিষে পিষে নোনারক্তের জমাট আঁধার, কবরীমুক্ত চাঁদেও  লাল কলঙ্কের দাগ। পায়ের তলায় সরষে  আর শরণার্থীর ভিড় সবই তুলে রাখা প্রতিদানের খাতায় …. শুধু সময় বড় বালাই ।।

অভ্রদীপ বসু।। চা পাতা সাপ্তাহিক। ৪২

ছবি
অভ্রদীপ বসু  অন্ধত্ব নৈঋতে মেঘ জমেছে তোমাদের পায়া ভারী হয়ে এলো রঙিন পলাশের কাছে নিরালায় শিখে নাও বসন্তের উদারতা ভরা ফাগুনের মাঝবয়সে আষাঢ়ে মেঘ ঘনাতে ভুলে যাও গো সখী ভুলেই যাও, কেননা অসময়ে সকলই অনিয়ম মেঘ কেটে কেটে জল নেমে আসছে ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে সব ঘৃণা-প্রেম-ভাঙ্গন-শস্যল শবদেহ জুড়ে অন্ধকার নেমে এসে বুক ভিজিয়ে দিলো টিউশনি শেষ করে তুমি নিজ গতিতে ফিরছো, প্রচন্ড ঝড় হল চুল গুছিয়ে তুমি বাস স্টপে এসে দাড়ালে শরীরে চন্দনগন্ধ, এভাবে দাঁড়ালে বৃষ্টি আসে...ঢেউ আসে...বন্যা আসে তুমি আর ওভাবে থেকো না অচেনা যুবকের শিরায় খুঁজো না নিজেকে ওভাবে ভালো বেসো না আর ওরা অন্ধ হয়ে যাবে সখী জল ছেঁকে ছেঁকে যেমন অন্ধ হয়েছি আমি...

শিবসাগর ।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
শি ব সা গ র কতক্ষন ? কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলে মূর্তি হওয়া যায়? কতটা, ঠিক কতটা আলো মেপে নিলে, মুখে উল্কি জেগে ওঠে বাহারি জলরং ? আদতে আমি এসব কিছুই জানি না কোনোদিনও ছুঁয়ে দেখিনি সমর্পিত নদী, কোনো রাতে লেলিয়ে দেইনি ছাতিম সুবাস, স্বপ্ন দেখেও মনে রাখতে পারিনি এযাবৎ কাঁধের কোটরে খাটো-পা শালিকের ঘর হাওয়াবদল আর হাওয়াবদল, মেঘ বসতে এসেও জল খেতে চলে যায় কতটা, ঠিক কতটা বেঁচে থাকলে গাছ হওয়া যায় !

সুস্মিতা সাহা।। চা পাতা সাপ্তাহিক।। ৪২

ছবি
সু স্মি তা  সা হা দর্শন আজকাল শীত এলেই নিজেকে কুনোব্যাঙ বলে মনে হয় অনার্দ্র ত্বকের উষ্ণতা শুষে নেবার তীব্র ইচ্ছা অপাঙতেয় সারিতে বসে কিছু ভুলকথন আর তোমায় মুগ্ধ করার কিছু সহজাত প্রবণতা হবা থেকে কুনোব্যাঙ এক অদ্ভুত সমান্তরাল রুপান্তরেচ্ছার সায় মর্মভেদে তীক্ষ যৌবন চিলেকোঠায় ঘুমায়।