রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

ধারাবাহিক উপন্যাস




১৩.

অনিমেষ একটা সিগারেট থেকে আর একটি সিগারেটে চলে যেতে যেতে একটা নুতন লেখা শুরুর কথা ভাবে। বেসিকালী সে ভেতরে ভেতরে একটা লেখাই লিখছিল।সিগারেটের না ফুরোন অংশ অনিমেষ ছুঁড়ে ফেলে দেয় আর ফুলস্কেপ কাগজে লেখা শুরু করে দেয়।

১৪.

অনিমেষ লিখতে থাকে_

‘তখন জেগে উঠতে থাকে গিয়াসুদ্দিনের পৃথিবী।পাছা আইতের মোরগ ডাকে ইমামসাহেবের বাড়ির খোলানে।সারারাত মাছ ধরে ডিঙি ঘাটায় রেখে জাল গুটিয়ে মাছ ভরা খলাই নিয়ে বাড়ির পথ ধরে গিয়াসুদ্দিন। শরীরেপানিকাদার আঁশটে গন্ধ।সালাইবিড়ি স্যাঁতসেঁতে।বহুবারের চেষ্টায় বিড়ি ধরায় গিয়াসুদ্দিন।আজ মনটা বেশ খুশীয়াল। বহুদিন পর প্রচুর মাছ পেয়েছে সে। সবই পীরফকিরের দোয়া। গান ধরে গিয়াসুদ্দিন-

‘হাউসের মেলা জোড়া খেলা/ধল্লা নদীর কাছাড়ে/ও রে /গুয়াচাচার নাও ফাইনালে...’

গিয়াসুদ্দিন,পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই ;মেদহীন কিন্তু শক্ত চেহারা।ইয়াকুব মাঝির মাইঝা বেটা ।বংশপরম্পরায় মাঝিবংশ।বাপইয়াকুব ,বাপের বাপ আনসারুদ্দিন ;যাদেরদাপ ও তাপ ছিলো যথেষ্টই। সে অবশ্য ইন্ডিয়া পাকিস্থান হবার অনেক আগের কথা। বাড়ির দুয়ারে এসে গিয়াসুদ্দিন দ্যাখে শামিমা দাঁড়িয়ে আছে। ঝরিমন চুলায় খড়ি গুঁজছে। মনে আনন্দহল তার। সত্যি বিবি হিষাবে শামিমার জুড়ি মেলা ভার।বেটি ঝরিমনও হয়েছে আম্মুর মত।শামিমা মাছের খলাই নিল গিয়াসুদ্দিনের হাত থেকে।ঝরিমন ও ছোট বিটি আফসানা দৌড়ে এল ‘বাপজান বাপজান’ বলতে বলতে।আহা,

এই না হলে সুখ!সোনার সংসার!শরীরভরা পুলক নিয়ে  গিয়াসুদিন তার পৃথিবীতে ঢুকে গেল।আকাশে আলো ফুটেছে তখন।চারপাশে পাখপাখালি,ধানখেতে হলখল বাতাস।বেলা গেইছে ভাটিট। আওলিয়ার হাট থেকে বুড়িমারি যাচ্ছে সাইকেল চালিয়ে মোহাম্মদ খোরশেদআলম।সবাই চেনে খোরশেদ ভাই নামে।লালমণি পরিবহনের  বুড়িমারি কাউন্টারের ম্যানেজার।এছাড়া সীমান্তের টুরিস্টদের কাজকর্মও করতে  হয় খোরশেদকে।ইণ্ডিয়ার এক ভাইজান আছে যিনি লেখালেখি করেন,তার কাজও করতে হয়। এই যেমন,ইণ্ডিয়ার ভাইজানের এক বাংলাদেশী কবিবন্ধু খালিদ ভাই  আজ এসেছিল বুড়িমারি সীমান্তে।খালিদভাই-কে সঙ্গ দিতে হল। এরপর ট্রেনধরিয়েও দিতে হল।খালিদভাইয়ের বাড়ি লালমণিরহাটের আদীতমারীতে।এখন পড়াশোনা করছে রংপুরে।খোরশেদ ভাই ভীষণ ব্যাস্ততায় আছে এখন।কাউণ্টারে  ভিড় বাড়ছে,কেননা সামনে ইদ। বেশ চাপ। অনেক রাত হয় আজকাল বাড়ি  ফিরতে।আর সীমান্তে বি এস এফ-এর বেশ নজরদারী।ভয় লাগে রাতবিরেতে  একা একা যাতায়াত করতে।ধরলা নদীর ব্রিজে ওঠার মুখেই রেজ্জাক ও পুলিশভাই-এর সঙ্গে দেখা।ওরা 

বললো-‘ভাইজান,চল

বাহে;আজি আইতত বাউরা বাজারত পালা দেখির যাই। ময়নামতির নাচ দেখি আসি চল কেনে, হামরা অংপুরিয়া মানষি। রঙ্গ-রসত  বাঁচি থাকি’।খোরশেদ রাজি হল।মনে মনে ভাবল-‘বিবিজানক ফোন করি  এল্যা কওয়া খায়,আইতত যেন মোর বাদে ভাত না রান্ধে; মাছ না ভাজে।বিহানতে আসিয়া কাউণ্টারত খোয়া

খায়।‘এইসব ভাবতে ভাবতে বুড়িমারি চলে এল।আজি বুড়িমারিত হাট।মেলা  মানসি।দোতরা ডাঙেয়াকবিরাজ আইচ্চে দেখং মেলা দিন পাছত! খোরশেদ  লালমণি পরিবহনের অফিসে ঢুকতেই ইণ্ডিয়ার চ্যাংরাবান্ধা বর্ডারের কাউণ্টারের বিভাস সাহা,মানে বিভাস ভাইজানের ফোন এল।

গিয়াসুদ্দিন থাকে গিয়াসুদ্দিনের পৃথিবীতে।খোরশেদ আলম থাকে তার ভূবনেই।গান নাচ হাউড় বাউড় আবারকূপির আলোয় বাজারহাটের দেশকালের রঙ্গরস ভরা এক জীবন খেলা করে যায়।ধরলা নদী দিয়ে গ্যালন গ্যালনপানি। গামছাবান্ধা দই। দোতরা বাজিয়ে গান ধরে খইমুদ্দি পাগেলা।পুলিশ রেজ্জাক আব্দুল সিরাজেরা হাততালি দিয়ে ওঠে।কোথাও শ্যাখের বেটির জনসভা হয়।বাদ্য বাজে।বেগমসাহেবার পদযাত্রায় মাতম ওঠে।কোনো কোনো

হাটে ছিলকা ঘোরে-‘বান পানি বরসা/পল্লিবন্ধু ভরসা’...’নীলসায়রের বিলে বাইচের নাও ভাসে।


দেশকালঅতীতবর্তমানবাহিত হয়ে  ধরাছোঁয়ার খেলার মত দিনকালের ধাঁধাবৃত্তে নতুনতর হয়ে ওঠে।

খোরশেদ আলম চা খেতে যায় ফিরোজ-এর মরিচহাটির দোকানে।গিয়াসুদ্দিন ঢাকার বাসে চেপে বসে বউবিটি নিয়ে।

লোকপৃথিবীর ভিতর নিশারাত্তিরের স্তব্ধতা।দূরেকাছের কুকুর শেয়ালেরা সুর  মেলায় রাতচরাপাখিদের গানে।বোধাবোধির সকল সীমাপরিসীমা একাকার করে দিয়ে মানুষ তার বেঁচে থাকাটাকে আদ্যন্ত এক চিরকালীনতার দর্শনের সাথে কেমন যেন মিলিয়েই ফেলতে থাকে! হারিয়েই ফেলতে থাকে কুয়াশাশিশিরস্নাতগাথা শোলকের অতিজীবিত ট্রমার চলাচলজাত রাস্তাগুলিতে হেঁটে যাবার  অতিআবশ্যক বাধ্যবাধকতায়’।

একটানা লিখবার পর অনিমেষ আবার একটা সিগারেট ধরায়।



চা পাতা ৮৯



 








রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

চা পাতা * ৮৮

 














ধারাবাহিক উপন্যাস






 ১১.

ভবতারণের জোতে প্রবেশ করবার কিছু পরেই সুবল কাকার চায়ের দোকানে অনিমেষ সাবলীল প্রবেশ করে।কুশল বিনিময় হয় সুবল কাকার সাথে। পুরনো হাটের গল্প হয়।

একসময় বেঞ্চির আরামে ডুবে যেতে যেতে অনিমেষ লিখতে থাকে তার ডায়েরি_

"লেখালেখি আসলে এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।একজন লেখক সবসময় লেখা বহন করেই বাঁচেন।তার যাপন ঘিরে থাকে অদ্ভুত এক ঘোর।তার মানে কিন্তু এই না যে সবসময় তাকে লিখতে হবে।আসলে মূল কথা,লেখক বা সৃষ্টিশীল মানুষকে তার অভ্যন্তরের উনুনটিকে সবসময় জ্বালিয়ে রাখতে হবে।এছাড়া আর বিকল্প নেই।আসলে একজন লেখক একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হলেন একজন দণ্ডিত মানুষ।অভিশপ্ত মানুষ।সারাজীবন সৃজনের খিদে নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়।হবেই।

ব্যাক্তিগত জীবনের বহিরঙ্গে যেমনই হন বা যে জীবনই তিনি যাপন করে থাকুন,লেখা আর পড়বার জায়গায় চূড়ান্ত রকমের সৎ থাকতে হবে।

পড়াশোনা আমাদের পুষ্টি জোগায়।আমি এত বছরের লেখালেখির জীবনে কিছুই হয়তো লিখে উঠতে পারিনি।কিন্তু সৎ থেকেছি লেখায় ও পড়াশোনায়।ফাঁকি দিতে পারিনি।প্রতিটি সৎ গ্রন্থের কাছে প্রতিপল শিখেছি।শিখি আজও।এই উত্তরের গঞ্জহাট মেলাউৎসবে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটি মানুষ আমার কাছে অপঠিত মহৎ গ্রন্থের মত।আমি আমার দেখা দিয়ে খুব নিবিড় হয়ে পড়তে শুরু করি তাদেরকে।নিজেকে খুশি ভবি আমি।বিষাদ আমার কাছে শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত।ভালো আছি।লেখা আর লিখে যাওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই চাইবার নেই।লেখক জীবন মানেই কুয়াশায় মুড়ে যাওয়া একটা টানেল,একটা ট্রান্স!"

১২.

চা খাবার পর অনিমেষ ঝোলা কাধে বেরিয়ে আসে।তার সামনে কার্তিকের ভরা ফসলের ক্ষেত খামার।অতিশয় ছোট পাখিদের ওড়াউড়ি।

অনিমেষ ইয়াকুবের বিলের সেই ভূত পেত্নীর শ্যাওড়া গাছের নিচে বেশ গুছিয়েই বসে পড়ে।আর লিখতে থাকে_

"

আমার একটা গঞ্জহাটের পৃথিবী আছে।আমার পৃথিবী জুড়ে অগণন সুপুরিগাছের সারি।আমার পৃথিবীতে ভরা নদীর ওপর ঝুঁকে পড়া মায়াবৃক্ষ।ভুমিলগ্ন আবহমানের সব চিরায়ত সোনার বরণ মানুষজন।আমার একটা নাচঘেরা বাজনাঘেরা অপরূপ লোকপুরাণের দেশ রয়েছে।সেখানে 'ভইসা গাড়ির' নীচে কালিমাখা লণ্ঠন দোলে।আর ধু ধু পাথারবাড়ির দিকে গান ছড়িয়ে পড়ে-

'কুচবিহারত হামার বাড়ি

ঘাটাত দেখঙ ওরে ভইসা গাড়ি'

মানুষ যেভাবে গল্পের পাকে পাকে জড়িয়ে যায়,জীবন যেভাবে গল্পের পাকে পাকে জড়িয়ে যায়,আমিও সেভাবে এই লোকমানুষের দিনদুনিয়ায় ডুবে গেছি।উত্তরের এই লোকজীবনের মায়া ও জাদু আমার চরম প্রাপ্তি।চরমতম শক্তি।

আমি যখনই অস্থির হয়ে পড়ি,আমি যখনই একা হয়ে যাই তখন এই লোকায়ত ভুবন,উত্তরের লোকগান আমাকে ফিরিয়ে আনে জীবনে।ফিরিয়ে আনে লড়াইয়ে।ফিরিয়ে আনে চূড়ান্ত স্বপ্নের ভেতর।

আমি আবার নুতন হয়ে উঠতে থাকি।আর গৌরীপুরের হাট থেকে মাধবডাঙ্গার গঞ্জ থেকে ঝাঁকুয়ারটাড়ি থেকে দেখি ভেসে আসে হাতিমাহুতের অন্তহীন যত গান-

'ও মোর গণেশ হাতির মাহুত রে

ও মোর মাকনা হাতির মাহুত রে

মোক ছাড়িযা কেমনে যাইবেন

তোমরা হস্তীর শিকারে'...

জীবন দুলে ওঠে।জীবন উৎসবে পরিণত হয়।

আর আমি প্রনাম করি আমার উত্তরের মাটিকে।

উত্তরের মানুষকে।

35 বছর বাংলা কবিতার ভেতর ডুবে গিয়ে

সুপ্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।ভালো ও মন্দ সব মিলিয়েই।বারবার স্বপ্ন দেখি আমি।বারবার স্বপ্নভঙ্গ হয় আমার।এটাও একটা জার্নি।এই প্রান্তবেলায় এসেও আমি কিন্তু হাল ছাড়ছি না।বারবার স্বপ্নই দেখে যাবো আমি।

কারণ, আমি বিশ্বাস করি একজন কবির জীবন

আদতে অভিশাপের জীবন।সন্ন্যাসী ও সৈনিকের জীবন"।



রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

ধারাবাহিক উপন্যাস

 

৯.

কূটকাচাল!আমরা তো আসলে কূটকাচাল জড়িয়েই বাঁচি।আর কূটকাচাল ঢুকে পড়তে থাকে হেমন্তের মস্ত হা-মুখের গহ্বরে।জীবনের প্রতিদিনে কিভাবে বুঝি চলে আসে কূটকাচাল ! কূটকাচাল আসে আর কিরকম জটিল হয়ে উঠি আমরা।


কূটকাচাল আসলে পাশাপাশী চলতে থাকা সমান্তরাল রেললাইন ।আর কূটকাচাল ছাড়া আবার জীবন হয় নাকি!যাপন হয় নাকি!কিংবা জীবনযাপন হয় নাকি!

১০.

এসব ভাবতে ভাবতে অনিমেষ তার লেখার টেবিলে বসে পড়ে।নানান ওঠা পড়ার ভেতর দিয়ে অনিমেষকে পেরিয়ে আসতে হয়েছে লেখালেখির জীবন।

এক পেগ হুইস্কি খেতে খেতে অনিমেষ লিখতে শুরু করে_

"আমার ব্যক্তিজীবন জুড়ে জুড়ে দিবস ও সন্ধ্যের আলোর বা রঙের মত বারবার ধাক্কা মেরেছে কূটকাচাল।আমি হয়তো কোথাও গেছি।আডদা দিচ্ছি।আবার আড্ডা দিয়ে ফিরে এসেছি।পরে জানলাম,আমি ফিরে আসবার পরেই কি দ্রুততায় আড্ডার মানুষগুলি তাদের মুখোশ খুলে ফেললেন।আর শুরু হয়ে গেল আমাকেনিয়ে নানান মজাদার কূটকাচাল।আসলে আমি তো সোজাসাপটা মানুষ।তাই বিতর্ক তাড়া করেছে সমস্ত জীবন।কূটকাচাল আসে এভাবেই বিকেলের পাখিদের ডানায় ডানায়।


আমি একটা ভরা নদীর বাঁকে দাঁড়িয়ে দেখি কিভাবে অনন্তের স্রোতে ভেসে যায় আমাদের কূটকাচালগুলি।


কূটকাচালের সমস্ত পরিধী জুড়ে হলুদ সরিসার খেতে রচিত হতে থাকা ল্যান্ডস্কেপগুলি গানের পর গানের মতন করে ধেয়ে আসে,ধেয়েই আসতে থাকে আর আমি সদ্যরচিত কবিতার পাতায় গুঁজে দিতে থাকি ঘুম আর ঘাম।


এইসব এলোমেলো আর অগোছালো যাতায়াতের মাঝে কূটকাচাল এসে পড়ে চিরদিনের ম্যাজিকের মত হালকা চালে এবং কূটকাচাল ঢুকে পড়তে থাকে হেমন্তের মস্ত হা-মুখের গহ্বরে।


আমি পরমায়ু প্রার্থনা করি।আমি কূটকাচাল প্রার্থনা করি"।

লেখাটা শেষ করে অনিমেষ একটা অসামান্য হাসি ঝুলিয়ে রাখতে থাকে তার মুখে।




চা পাতা * ৭৭

 





রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০




 ৭।


জীবনের বহুস্বরিক কালখন্ডে সব যেন থরে থরে সাজানো থাকে।অনিমেষ তার এত এত দীর্ঘ জীবন দিয়ে সম্পর্কের নানান স্তরগুলিনিয়ে খুব ভাবে।ভাবতেই থাকে।আসলে কোন সম্পর্কই কিন্তু নষ্ট হয় না।প্রতিটি সম্পর্ক আসলে অর্জন।সব সম্পর্ক থেকেই ঠিকড়ে বেরিয়ে আসে অদ্ভূত এক আলো,যা সমস্ত জীবনে নিজের মতন করেই থেকে যায়।এই পঞ্চাশে এসে মাঠ প্রান্তর শহর শহরতলী দিয়ে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে আজকাল অনিমেষ তার ফেলে আসা সম্পর্ক গুলি নিজের মতন সাজাতে সাজাতে জীবনের মজা ও ম্যাজিকগুলি নির্মাণ ও বিনির্মাণের খাঁজে ঢুকিয়ে দিতে থাকে।তার ঠোঁটে সেসময় চিলতে হাসি ও নিরিবিলি খেলা করে।


কত নারী এসেছে অনিমেষের সমস্ত জীবনভর।তার খুব মিঠু দিকে মনে পড়ে,বুড়ি দিকে মনে পড়ে,সোনাদিকে মনে পড়ে।কোহিনুর চা-বাগানের বেবী ওড়াও কে মনে পড়ে।জীবনের এক পর্বে এরা ঘিরে ছিল অনিমেষের জীবনকে।কত কত দিন এরা কেউ আর এই পৃথিবীতে নেই!কিন্তু অনিমেষের জীবনের গুহাগাত্রে তারা কিন্তু খুব নিবিড় হয়ে রয়েই গেছে।


বাল্যে জটিলার সাথে সখ্যতা জমেছিল।তার বাল্যবান্ধবী ছিল ভজন।খেলার সাথী ছিল গায়েত্রী।সে এক নদীঘেরা দ্বীপ শহরের জীবন ছিল।হারিয়ে যাওয়া সেই নারীদের প্রায় ৩০ বছর পরে আবার অনিমেষ খুজে পেয়েছিল,যখন তাকে চাকরীসূত্রে আবার ফিরে যেতে হয়েছিল বাল্যের সেই দ্বীপশহরে।


কিন্তু অনিমেষ হারানো নারীদের ফিরে পেয়েও বুঝতে পেরেছিল,হারানো সময় হারানো মানুষ হয়তো ফেরে;কিন্তু সেই ফেরায় হারানো কালখন্ড কিছুতেই ঘুরে আসে না!হায়রে জীবন!হায়রে মহাকাল!


৮।


নিভে যাওয়া সিগারেট নুতন করে ধরাতে গিয়ে চোখের কোণ ও কপালের ভাঁজে ঘাম জমে অনিমেষের।সে নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকে,নিজেই আবার উত্তর দেয়।


_আচ্ছা,সব সম্পর্ক থেকে কি বেরিয়ে আসা যায়?


_না।একেবারেই না।


_তবে কি সম্পর্ক সুগভীর ফাঁদ?মাকড়সারজাল?


_কিছু সম্পর্ক ভয়ঙ্কররকম মাদক ও মাদকতা জড়ানো।যা থেকে তুমি আর বেরোতেই পারবে না।


‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে’ গানটির কথা মনে করে দেখো অনিমেষ!


হ্যা।জানে।বোঝে অনিমেষ।প্রায় পঞ্চাশে পৌঁছোবার আগে তাকে তো এমনই একটা উত্তরহীন প্রশ্নের মতন ভয়াবহ সম্পর্কের ভেতরে ঢুকে পড়তে হয়েছিল।


আর,সেটাই তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পরাজইয় ।




চা পাতা ৭৬


 








ধারাবাহিক উপন্যাস

১৩. অনিমেষ একটা সিগারেট থেকে আর একটি সিগারেটে চলে যেতে যেতে একটা নুতন লেখা শুরুর কথা ভাবে। বেসিকালী সে ভেতরে ভেতরে একটা লেখাই লিখছিল।সিগারেট...