ধারাবাহিক গদ্য

 

          ধারাবাহি দ্য         

সমর দেব 
 আমার যে দিন ভেসে গেছে
৫.

  সে একটা সময় ছিল, যখন উত্তরবঙ্গ মানেই ‘কলকাতার’ কাছে জঙ্গল মাত্র। জঙ্গল সাফারিতে আসতেন অনেকেই। পর্যটকের তালিকায় যেমন থাকতেন নেতা-মন্ত্রী, সরকারি আমলা, তেমনই উত্তরবঙ্গে আসতেন কবি-লেখকরা। বনজঙ্গলের জন্যই ডুয়ার্স ছিল অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নেতা-মন্ত্রীদের আসতেই হতো,  ভোট বড় বালাই!  আর, আমলাদেরও প্রায়ই নিরুপায় অবস্থা। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষার প্রশ্নই নেই। কিন্তু, কবি-লেখকরা ডুয়ার্সে আসতেন ছুটির মেজাজে। দু-চারদিন ফুর্তি করে ফিরে যেতেন। উত্তরের লোকজনও নানা জরুরি প্রয়োজনে, সরকারি কাজেকম্মে, এবং কেউ কেউ স্রেফ কলকাতা শহর দেখবার দুর্মর বাসনায় ওমুখো হতেন। যে-সময়ের কথা বলছি, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা তখনও কারও কল্পনাতেও স্থান পায়নি, নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সুবিধেজনক ছিল না, তেমনই নানা ক্ষেত্রেই ছিল প্রায় অলঙ্ঘ্য ব্যবধান, মন-মানসিকতায়, কৌলিন্যে, অর্থনৈতিক কার্যকারণেও। রাজধানী কলকাতার সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্বের চেয়েও বড় ছিল উত্তরের জনপদগুলির প্রান্তিক অবস্থান। আর, আমার জেলা শহর কোচবিহার তখনও রাজধানীর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এবং জৌলুস থেকে যোজন যোজন দূরে। ষাটের দশকে খাদ্য আন্দোলনের সময়ে পুলিশের গুলিতে ক্ষুধার্ত সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ছাড়া কোচবিহার নিয়ে তেমন কোনও উল্লেখও থাকত না কোনও দৈনিকের পাতায়। তখন কলকাতার দৈনিক কাগজগুলো কোচবিহারে আসত একদিন পরে। উত্তরবঙ্গের পাঠকদের চিঠিও কলকাতার দৈনিক কাগজগুলোতে প্রায় কখনই প্রকাশ পেত না! সম্ভবত, উত্তরের জেলাগুলো থেকে চিঠিপত্র এলে সম্পাদকেরা সেসব খুলেও দেখতেন না! এখানে মনে পড়ে যায়, আমার পিতৃপ্রতিম, আমার শহর তথা বাংলা সাহিত্যের গর্ব অমিয়ভূষণ মজুমদারের কথা। পঞ্চাশের দশকেই তিনি নীলভূঁইয়া-র মতো উপন্যাস লিখে ফেলেছেন! তাঁর সামনে কার্যত কোনো সুবিধাই ছিল না। স্রেফ অনন্য প্রতিভার জোরেই তিনি সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে বাংলা সাহিত্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ভাবলে গর্ব হয়, বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ অমিয়ভূষণ আমার শহরের মানুষ। তবে, এই বিস্ময় প্রতিভার গুণমুগ্ধ হতে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাকে, অনেকটা পরিণত হতে হয়েছে। তবু, আজও তাঁর সৃষ্টির আনাচে কানাচে আগে না দেখা অনেক মণিমুক্তো খুঁজে পাই।    


ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি !  কথা হচ্ছিল উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনপদ নিয়ে। কোচবিহারের প্রান্তিকতার আবহে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। অতএব, সেই প্রান্তিকতা আমার চরিত্রে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে এআর অস্বীকার করি কীভাবে! সেকারণেই কী নিজের পরিণত জীবনে মানুষের জীবনকথা বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রান্তিক মানুষেরা? সেকারণেই কি নিম্নবর্গের মানুষের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য জীবনবেগ সহজেই লক্ষ্য করি ? সেই সঙ্গে, নিজের ব্যক্তিগত প্রান্তিক, নিম্নবর্গীয় অবস্থান এক্ষেত্রে গোপনে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে যায় ? তখন আমার জীবন ছিল স্কুল আর বাড়ি আর পাড়া। পাড়া বলতে পাশাপাশি কয়েকটা বাড়ি। যেসব বাড়িতে কাছাকাছি বয়সীরা, সকলেই খেলার সাথি, কেউ কেউ সহপাঠীও। আমাদের খেলাগুলো ছিল গ্রামীণ ধরনের। যেমন গোল্লাছুট, হাডুডু, চোর-পুলিশ, কুমির-ডাঙ্গা, আত্তিপাত্তি, দাড়িয়াবান্ধা। আর ছিল, পাঁচটা পাথর নিয়ে গুটিখেলা, ছিল ইকরি মিকরি। ক্লাস টুয়ে ওঠার পর আমার খেলার মধ্যে ঢুকে পড়ল লাটিম ঘোরানো। একেকটি লাটিমের দাম ছিল, যতদূর মনে পড়ছে, দশ পয়সা। পাড়ার মুদিখানাতেও পাওয়া যেত লাটিম। লেত্তি দিয়ে পেঁচিয়ে লাটিমকে উল্টো করে ধরতে হতো শক্ত মুঠোয়। তারপর বিশেষ কায়দায় মাটিতে ছুঁড়ে দিলেই বনবন করে ঘুরতে শুরু করত সেই লাটিম। বেশ কিছুদিন ধরে বিরতিহীন ভাবে লাটিম ঘোরানোর মৌতাত জমে উঠেছিল। স্কুলের সহপাঠীরা এবং পাড়ার সমবয়সীরাও সকলেই লাটিম ঘোরাতো। একদিন পাড়ারই একজন এসে নতুন ভাবে লাটিম খেলার জ্ঞান দেবার পর আমরা সকলেই তার সঙ্গে মজে গেলাম। উঠোনে একটা বৃত্ত বানানো হতো লাটিম আর লেত্তির সাহায্যে। প্রথমে লেত্তিটা ভাঁজ করা হতো লাটিমের আলকে জড়িয়ে। তারপর অন্য প্রান্তটা মাটিতে এক জায়গায় চেপে ধরে আলটা মাটিতে চেপে ধরে একবার চারপাশ ঘুরিয়ে আনা হতো। তাতে, একটা নিখুঁত বৃত্ত তৈরি হতো। এরপর আমরা সব খেলুড়ে একটা করে লাটিম সেই বৃত্তের মধ্যে রেখে দিতাম। তারপর শুরু হতো আসল খেলা। বৃত্তের ভেতরে লাটিম ছুড়ে ঘোরাতে হতো এবং এভাবেই বৃত্তের ভেতরের একটা লাটিম বাইরে আনতে পারলেই সেটা তার হয়ে যেত। আমার সম্বল ছিল মাত্র দুটি লাটিম। এভাবে খেলতে গিয়ে শুরুতেই একটা লাটিম আমার হাতছাড়া হয়ে গেল! সকলেই সমবয়সী, কান্না পেলেও মেনে নিতেই হলো! এবং আরেকটি লাটিম নেই বলে আর খেলা সম্ভব হলো না। মুখ চুন করে অন্যদের খেলা দেখছি। একে একে বাকি দুজনের হালও আমারই মতো হলো। একমাত্র বিজয়ী সমীর জিতে যাওয়া সব লাটিম নিয়ে ঘরমুখো হলো। আমরা সকলেই পিছন থেকে তাকে দেখতে থাকলাম পরাজিত রাজার মতো। লাটিম খোয়া যাওয়ার চেয়েও বেশি দুঃখ হচ্ছিল পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে। আমরা তখন একেকজন যুদ্ধবিধ্বস্ত পুরু রাজা !  ফলে, ভঙ্গিতে একটা উদ্ধতভাব ফুটিয়ে তোলার করুণ চেষ্টাও ছিল। কিন্তু হায়, বিজয়ী মোটেই আলেকজান্দার ছিল না, ফলে, ক্ষমা প্রদর্শনের ঔদার্য সে দেখাতে পারেনি। তখন একমাত্র লাটিম নিয়ে একা একা ঘোরানো ছাড়া কিছুই করার ছিল না আমার। এরই মধ্যে ক্লাস টুয়ের ফলাফল বেরলো। আমরা নতুন ক্লাসে। এখন আমাদের বেঞ্চ আছে। ওপাশে টুয়ের ছেলেমেয়েদের দেখি করুণার চোখে। বেচারারা প্লাস্টার খসা মেঝেতে, ধুলোবালিতে বসছে। আমরা, উঁচুতে, বেঞ্চে আয়েস করে বসছি। আমাদের ভাবে ভঙ্গিতে কর্তৃত্বের ছাপ। তখন বছরের শুরুর দিক। ক্লাস ওয়ানে তখনও ছাত্র নেই বলে সেই জায়গাটা খালি পড়ে থাকে। বড়দির ছেলে বাপীর জন্য আমাকে একটি ভর্তির ফর্ম আনতে বলেছিল বাড়ির কেউ। হাতে পঁচিশ পয়সা দিয়েছিল সেজন্য। আমি স্কুলে গিয়ে আর সেটা মনে রাখতে পারিনি !  স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রিয় বন্ধু কাজল পচার দোকানে ঢুকেছিল। সে দশ পয়সায় একটা লাটিম কিনে নিলে আমার মনে পড়ে গিয়েছিল আমার একটি লাটিম ‘জুয়ায়’ হেরে যাবার ঘটনাটা। পকেট হাতড়ে পয়সা বের করে দিব্যই একটা লাটিম আমিও কিনে নিই !  অথচ, পয়সাটা আমার পকেটে কী করে এলো সেটা মাথাতেই এলো না !  বাঙালদের মধ্যে একটা কথা চালু আছে, যার কপালে প্রহার অপেক্ষা করছে তার ‘পিঠ শূলায়’। আমার বোধহয় সেটাই হয়েছিল। কোথায় ফর্ম, কোথায় কী ! পকেটে হাত ঢুকিয়ে পয়সা খুঁজে পেয়ে খুশিতে ডগমগ আমিও একটা লাটিম কিনে ফেলি। হায় ঈশ্বর! কে জানত এমন ভয়ানক ভবিতব্য অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বাড়িতে এলে সেজদি হাত বাড়িয়ে বললো, ‘কই, ফরম দে’। আমি ততক্ষণে বুঝে গেছি ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছে !  তাই তো, আমার পকেটে পয়সা তো থাকার কথা নয়! ওই পয়সা তো ভর্তির ফর্ম কেনার জন্য দিয়েছিল সেজদিই ! তারপর যা যা ঘটেছিল সেসবের বিস্তারিত বিবরণে লাভ নেই !  সেই ভয়ানক অপমান, সেই নির্মম প্রহার, সেই বিড়ম্বনা, সেই কঠোরতম কটুবাক্য! সেদিনই প্রতিজ্ঞা করলাম, আর নয়। এই শেষবার বোকামি, শেষবার ভুলে যাওয়া। এবার থেকে সব মনে রাখব, এবার থেকে চালাক হবো। কিন্তু সেই শৈশবে যতই প্রতিজ্ঞা করি, আজও অজস্র বোকামি করি, পরে বুঝতে পারি !  এই পরিণত বয়সে বারবার স্মরণ করি, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ। এবং নিজের অজস্র বোকামির মাশুল দিই। ফের প্রতিজ্ঞা করি। আসলে, কে না জানে, স্বভাব যায় না মলে। আমাদের ভৌগোলিক প্রান্তিক অবস্থান এবং সামাজিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আমার প্রান্তিকতা আমাকে যেভাবে গড়ে দিয়েছে তার সীমাবদ্ধতা সারাজীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এসেছে। সেই সময়ে আমরা সকলেই যে একরকম ছিলাম না, থাকার কথাও নয়, সেটা জীবনভর হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। তবে, আমাদের সমসাময়িক একটা বড় অংশ আমারই মতো, সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারি। বছর পাঁচেক আগের একটা ঘটনা বলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মজা করে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, ‘কান্তারভূষণ আমাকে আর সময় দিতে চাইছেন না!’ একটু পরেই দেখি আমার জেনকিন্স স্কুলের সহপাঠী, বন্ধু জ্যোতির্ময় লিখেছে, ‘কী দরকার, আমাকে বল। এখনই আমাকে ফোন কর তো’। আমি তাকে ফোন করলে সে জানায়, ‘কত টাকা দরকার ? ব্যাংক ডিটেলস পাঠা, এখনই’!  আমি তাকে বলি, ঘটনাটা স্রেফ মজার। একটা পত্রিকার সম্পাদক, বন্ধু, অধ্যাপক কান্তারভূষণ আমাকে গল্প লেখার জন্য বলেছিল। বহুবার সে আমাকে সময় দিয়েছে। আমি তাকে দিতে পারিনি। এবারে সে আমাকে বলেছে, অমুক তারিখের মধ্যে গল্প না দিলে সম্পর্ক রাখবে না। একথা জেনে খুব জোর হেসেছিল জ্যোতির্ময়। আমি ভাবি, এখনকার ছেলেমেয়েরা কী বন্ধুর জন্য এভাবে ভাবতে পারবে ?  অথচ, ১৯৭৮ সালে জেনকিন্স স্কুল ছাড়ার পর আর দেখা হয়নি আমাদের। মাত্র কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দৌলতে নতুন করে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে। কী মায়ায় আমরা জড়িয়ে ছিলাম, সেই সোনালি দিনগুলোয়। ক্লাসে আমি যে খুব উজ্জ্বল ছাত্র ছিলাম তা নয় মোটেই। সেই সঙ্গে ছিল আমার ভয়ানক দারিদ্র। অথচ, শহরের সবচেয়ে নামী, দামি স্কুলে পড়েছি। ক্লাসের সকলেই রীতিমতো স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের। কিন্তু, আর্থিক ব্যবধান আমাদের মধ্যে কোনো ব্যবধান রচনা করতে পারেনি। নিশ্চিত জানতাম এরা আমার বন্ধু এবং বন্ধুর জন্য প্রয়োজনে আত্মত্যাগের বিষয়টা তাদের প্যাথলজি মাত্র, চেষ্টাকৃত নয়। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, ক্লাস এইটে হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার মাস দেড়েক আগে, আমার প্রায় কোনো বই-ই নেই। আমার আরেক প্রাণের বন্ধু, তাপস সপরিবারে পাটনা যাচ্ছে। ও যাবার আগে ওর সব বই আমাকে দিয়ে গেল একেবারেই স্বেচ্ছায়। ও বলেছিল, ‘আমাদের ফিরতে এক মাস লাগবে। তুই বইগুলো নিয়ে যা। যখন ফিরব তখন দেখা যাবে’। ভাবলেই এখনও আমার চোখ জলে ভরে আসে। তাপসের দেওয়া বইগুলো এক মাসেই সম্পূর্ণ মুখস্থ করে নিয়েছিলাম। এবং ও স্কুলে আসার পর বইগুলো ফেরত দিয়ে বলেছিলাম, ‘সব আমার মুখস্থ হয়ে গেছে’। আর, সেবার ওই এক মাসের মুখস্থবিদ্যার জেরে ফাইনালে ইতিহাসে অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পেয়েছিলাম। ক্লাসে সবচেয়ে বেশি নম্বর। এতে যেটা লাভ হলো, বারীন রাহা স্যার একদিন কাছে ডেকে নিলেন। নানা কথা জিজ্ঞেস করলেন। তারপর হেডস্যার মৃণালকান্তি বর্মনের ঘরে আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন। ভয়ে আমার বুক কাঁপছে। পারিবারিক ও সামাজিক যে আতঙ্কের আবহে আমার জীবন, তাতে চারপাশকে ভীতিবিহ্বল চোখেই দেখে এসেছি বরাবর। এবারেও আমি চুপ করে আছি একই রকম ভীতিবিহ্বলতায়। আমার মুখে শোনা সব বৃত্তান্ত হেডস্যারকে বলে আমার জন্য কিছু করা যায় কিনা জানতে চাইলেন বারীন রাহা স্যার। তারপর আমাকে বললেন,‘ক্লাসে যা’।


মর দেব
               জন্মঃ ১৯৬৩ সালের ১ নভেম্বর, কোচবিহারে। সাংবাদিকতার পেশা সূত্রে গুয়াহাটিতে বাস করেন ।  কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০১৫ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে সমর দেবের 'আলো অন্ধকার' কাব্যগ্রন্থের কবিতা ইংরেজি অনুবাদে পেশ করে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের মন্তব্যঃ ‘ইউরোপ-আমেরিকা শিখুক এই বাঙালি কবির কাছে’। কথাশিল্পী সমর দেবের উপন্যাস অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি, অসম সরকার কর্তৃক ভাষা গৌরব সম্মাননা লাভ করেছেন। 

তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিপ্রেক্ষিত, ১৯৮১ সালে লেখা এবং শিলিগুড়ির অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিত্রবিশ্ব পত্রিকায় ১৯৮৬ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ যযাতি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের তালিকায় রয়েছে প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যযাতি' ছাড়াও এক যুগ আত্মপ্রতারণা (উপন্যাস), একটি গল্পের সুলুক সন্ধান (উপন্যাস), লঙ্কাবরের উমেশ মাঝি (উপন্যাস), নীল অন্ধকার (উপন্যাস), লোহিতপারের উপকথা (উপন্যাস), আম্মা তেরা মুন্ডা (কাব্যগ্রন্থ), আলো অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ), বহুদর্শী কাক ও অন্যান্য কবিতা (কাব্যগ্রন্থ) এবং একমাত্র প্রবন্ধ সংকলন অমৃতযাত্রা।



 


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চা- পাতা ৯৩

চা-পাতা ৯১

চা- পাতা ৯৫