ধারাবাহিক গদ্য

 

              ধারাবাহি দ্য                 

সমর দেব 
 আমার যে দিন ভেসে গেছে

 

        ৪.

স্কুল ছুটি হয়েছে। তখন দুপুর বারোটা। আমাদের দল বেঁধে ঘরে ফেরা ছিল এক উৎসব যেন। পাড়ার অনেকেই যদুবাবুর স্কুলে নানা ক্লাসের পড়ুয়া আমরা। স্কুলে যাবার সময় বাড়ির কেউ রীতিমতো হাত ধরে স্কুলে রেখে এলেও, ছুটির পর পাড়ার অনেকের সঙ্গে দল বেঁধে ঘরে ফেরা আমাদের নিয়ম ছিল। আর, এভাবে ঘরে ফেরার সময় যার মাথায় যেমন দুষ্টুমি খেলতো তাতে কোনো বাধা ছিল না। সেটা ছিল সীমাহীন মুক্তির স্বাদ। শাসন নেই, চোখ রাঙানি নেই, ধমক নেই। নেই প্রহারও। বেশ মনে আছে, আমাদের শৈশব-কৈশোরে কারণে অকারণে প্রহার ছিল নিত্য দাওয়াই। অধিকাংশ সময়েই আমরা জানতামই না কেন প্রহার করা হচ্ছে। যেন যারা বয়সে বড় তাদের স্বাভাবিক অধিকার এবং জরুরি কর্তব্যও যখন তখন ছোটদের প্রহার করা! মারধর, নির্যাতন, গালমন্দ বা ভর্ৎসনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আর, তাতে আমরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম! ফলে, তেমন গুরুত্বই দিতাম না। ভাবখানা এমন যে, তোমাদের যা ইচ্ছে করো, আমরাও যা ইচ্ছে করব। কোনটা ভুল বা কোনটা অপরাধ সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না। সাধারণত, ভুল বা অপরাধের বিষয়টি জানিয়ে কাউকে মারধর বা ভর্ৎসনা করার রেওয়াজ ছিল না। যেমন, ক্লাসে পড়া না পারলে মাস্টারমশাই প্রহার করতেন, আবার পড়া পারলেও একই ভাবে প্রহার জুটতো। ব্যাপারটা বেশ মজার ছিল। আমরা পড়ুয়ারা কেউ কাউকে কম বা বেশি ভাবতে পারতাম না। মনে আছে, পরেশ মাস্টার আমাদের অংক করাতেন। তিনি ক্লাসে এসেই হাতের লম্বা, সরু বেতটা নিয়ে টেবিলের ওপরে সপাং করে দু-চার ঘা মারতেন। তাতে যে শব্দ হতো, আমরা কেঁপে কেঁপে উঠতাম। সবাইকে অবশ্য তিনি বেত্রাঘাত করতেন না। বাছা বাছা কয়েকজন তাঁর বেত্রাঘাতের জন্য নির্দিষ্টই ছিল। যেমন দুলাল, যেমন নিরঞ্জন এবং এরকম আরো কয়েকজন। আমার প্রিয় বন্ধু কাজলকেও একদিন প্রবল বেত্রাঘাতে তিনি পিঠ ফাটিয়ে দিয়েছিলেন, বেশ মনে আছে। অনেকদিন পর্যন্ত আমরা কাজলের জামা তুলে পিঠের দাগ কতটা তখনও আছে পরখ করতাম। ভাবলেই এখনও মেরুদণ্ড দিয়ে বরফের স্রোত বয়ে যায়। আমাকে যে তিনি প্রায় কখনও বেত্রাঘাত করেননি, সে আমার কপাল। ক্লাসের মেয়েদেরও তিনি বেত দিয়ে প্রহার করেননি কখনও। হয়ত তাদের দুর্বল মনে করতেন। আমাকেও তিনি দুর্বল বলেই জানতেন, সেজন্যই হয়ত বরাত জোরে তাঁর আসুরিক বেত্রাঘাত থেকে প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়েছে। তবে, তিনি দুচারদিন আমাকেও ‘শাস্তি’ দিয়েছেন, কেন জানি না। একদিন ক্লাসের সবাইকেই একটা ছোট্ট যোগ অংক কষতে দিয়েছিলেন। খুবই সাধারণ একটা অংক। মাত্র কয়েকটি সংখ্যার যোগফল লিখতে হবে। আমরা মাথা নিচু করে খুব মনোযোগ দিয়ে স্লেটে লিখছি। হঠাৎই আর্ত চিৎকার শুনে মাথা তুলে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি দুলালের পিঠে বেত পড়ছে পরেশ মাস্টারের। পিঠে সপাং সপাং করে একেকবার বেত পড়ছে আর পরিত্রাহী চিৎকার করে উঠছে দুলাল। আমাদের তখন থরথর করে কাঁপছে প্রাণপাখি। একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। খানিক পরে মাস্টারমশাই থামলেন। তিনি শান্তভাবে তাঁর চেয়ারে গিয়ে বসলেন। আমরা একে একে তাঁর কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি স্লেট নিয়ে। দু-তিনটি মেয়ে ভুল অংক করায় আগুনে দৃষ্টিতে তাদের দেখে মাস্টারমশাই বলছেন, ‘কী অংক করছস! ভুদাই। কিছুই পারস না। যাহ্’। এই দলে ছিল শ্যামাও। তার অংকও ভুল হয়েছিল, কিন্তু বেঁচে গেছে মেয়ে বলেই! আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি স্লেটের ওপরে দৃষ্টি না দিয়েই ডান হাতে আমার জামাটা খানিকটা তুলে কোমরের কাছে তাঁর হাতের পেন্সিলের সহায়তায় সাঁড়াশির মতো টেনে ধরলেন খানিকটা চামড়া। তারপর, মুচড়ে মুচড়ে দিতে থাকলেন। প্রবল যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে আমি কান্না জুড়ে দিলাম। মাস্টারমশাই বললেন, ‘কান্দস ক্যান? বদমাইশ পোলা। তরে বটগাছের ডালে ঝুলাইয়া রাখুম, তহন বুজবি। যাহ্’। আমি আমার জায়গায় ফিরে এলাম। আমাদের ক্লাসে বেঞ্চ ছিল না। আমরা মেঝেতেই বসতাম। সেই মেঝের এখানে ওখানে প্লাস্টার খসে গেছে। পুরো মেঝেটা ধুলো-বালিময়। তাতেই আমরা, শিক্ষা গ্রহণের আলোক প্রণোদনায় বসতাম, যেন মায়ের কোলে পরম মমতায় আমাদের আসন। ফলে, আমাদের প্যান্টের পাছা থাকতো ধুলোয় সাদা। এসবে কোনো অসঙ্গতি আমাদের চেতনায় ধরা দেয়নি। যেমন, মাস্টারমশাইদের চরম নির্যাতন, অপমান আমাদের খুব বেশি চিন্তিত করতে পারেনি। এখনও মনে আছে, পরে জেনকিন্স স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়ার সময় একদিন রাস্তায় পরেশ মাস্টারকে দেখেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গেই মনে পড়ে গিয়েছিল তাঁর ছাত্র নির্যাতনের কথা। তখনও বুকের ভেতরে চিনচিনে ব্যথা, অপমানের জ্বালা, নির্যাতনের অসম্মানের তাজা স্মৃতি। হঠাৎ মনে হয়েছিল, এবারে বদলা নিলে কেমন হয়? কিন্তু, সেই সঙ্গে এটাও মনে পড়ে যায় যে, শিক্ষাগুরুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। তাঁকে কোনো ভাবে অসম্মান করা অপরাধ। মনের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র আলোড়ন উঠলে স্বভাবতই নীতিবোধ জয়ী হয়েছিল। নইলে পরদিন খবরের কাগজে একটা চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিতই ছাপা হতো। প্রাক্তন ছাত্রের হাতে প্রবীণ শিক্ষক প্রহৃত! বিস্ময়কর ঘটনা যে, সেদিনের ছেলেটি এগিয়ে গিয়ে পরেশ মাস্টারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিল! তখন কপালকুণ্ডলা তার মাথায় ঘুরছে। নবকুমারের স্বগতোক্তি ‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন’ মনে পড়েছিল। কেমন করে যেন নিজেকে সংবরণ করার মতো একটা মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ভাগ্যিস হয়েছিল, নইলে একটা কলঙ্ক আজীবন বয়ে বেড়াতে হতো!


স্কুল ছুটির পর আমরা দল বেঁধে ঘরে ফিরছি। প্রতিদিনই আমরা দুই নম্বর কালীঘাট রোড ধরে ঘরে ফিরতাম। সেদিন সঙ্গীদেরই কারও প্ররোচনায় আমরা অন্য রাস্তা ধরি। আসলে, কালীঘাট রোড এক ও দুই নম্বর, সমান্তরাল দুটো রাস্তা। স্কুল থেকে এক নম্বরে কী করে পৌঁছলাম এখন আর মনে পড়ে না। কিন্তু, এখনও স্পষ্ট মনে আছে, আমরা এক নম্বর রাস্তা ধরে ফিরছি। এই রাস্তাটা আমার কাছে নতুন বলেই দুচোখ ভরে সব দেখতে দেখতে হাঁটছি। সেই সময়ের সমবয়সীদের অনেকের মতো আমিও নিঃসন্দেহে ভোদাই ছিলাম। ভোদাই মানে খানিকটা হাবাগোবা টাইপের। এরা যা দেখে তাতেই হাঁ হয়ে যায়। সব দেখাতেই ভেবলে যায়। সব দৃশ্য গিলতে গিলতে পথ চলে। কান খাঁড়া করে সব শোনে। আমরা কেউ কেউ রাস্তায় পায়ের হাওয়াই ছুড়তে ছুড়তে ধুলো উড়িয়ে লাফিয়ে, হেঁটে, কখনও খানিকটা দৌড়ে চলেছি। মিতাদের বাড়িতে আজ ‘বার-নারায়ণের পূজা’। আসলে, শনি এবং নারায়ণ পুজো। শনির নামোচ্চারণে ভয়। তাই শনিবার শনিপুজো না বলে বিকল্পে ‘বার’ উচ্চারণ! আমরা সকলেই অবশ্য এসব ঠিকই বুঝে যেতাম। কোনো প্রশ্ন, কোনো সংশয় কখনও মনে দানা বাঁধেনি। ক্লাসে মার খাওয়া নিয়ে কথা চলছে। মেয়েরা বেঁচে গিয়েছে অতএব শ্যামা, মিতা ওরাও। শ্যামা আমাকে বলে, ‘বাড়ি চল। মাকে সব বলব’। আমি জানি না পরেশ মাস্টার কেন আমাকে পেটে চিমটি কেটেছে। অথচ, পরে ব্ল্যাকবোর্ডে যখন অংকটা নিজে কষে দিয়েছেন তিনি তখনই বুঝে গেছি আমার অংকটাও ঠিক ছিল। অথচ, মার খেয়েছি। এমনিতেই মনের ভেতরে প্রবল ক্ষোভ। কিছুই করার নেই, অসহায় এক অবস্থা। তারমধ্যে শ্যামার ওই কথায় যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে! আকস্মিক তার পিঠে সজোরে বসিয়ে দিই কিল! কী আশ্চর্য, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শ্যামা রাস্তায় হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে আর ওর নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে। আমি খুব ঘাবড়ে যাই। এরকম তো চাইনি আমি। মাস্টারমশাইয়ের অনর্থক নির্যাতনে অপমানিত, আহত বোধ করেছিলাম। তারই জেরে ওকে আঘাত করতে চেয়েছি মাত্র। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতে পারে সে মাথাতেই আসেনি। মিতা, উত্তম, কৃপা থেকে শুরু করে সবাই আমার ওপরে ক্ষিপ্ত। ওরা সবাই মিলে বলাবলি করছে, আমাকে বাড়িতে গিয়ে মার খাওয়াবেই। কী ভয়ানক মারধর আমার জন্য অপেক্ষা করছে ভাবতেই আতঙ্কে আমি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড় লাগাই। খানিক দূর আসার পর রাস্তায় যুগির সঙ্গে দেখা। তাকে সবাই ‘যুগি ভোম পুলিশ’ বলে খেপায়। সেও অকথ্য গালিগালাজ করতে করতে পিছু ধাওয়া করে। সেই যুগি আমাকে বলে, ‘কই যাইস, দৌড়াইয়া, দৌড়াইয়া ?’ বাড়িতে ফিরছি বলে জবাব দেবার পর সে বলে, ‘আয় আমার লগে’। আমি ততক্ষণে বেমালুম ভুলে গেছি একটু আগের ঘটনাটা। যে ঘটনার জেরে আমি দৌড়ে পালাতে চেয়েছিলাম। প্রসঙ্গত বলি, বছর কুড়ি আগে এই যুগিকে নিয়ে একটা গল্প লিখেছিলাম। সে গল্প একাধিক সংকলনে সসম্মানে জায়গা করে নিয়েছে। সেদিন যুগি আমাকে কার্যত রিলিফ দিয়েছিল। উদ্বেগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে আমি যুগির সাইকেলের রডে বসে বাকি রাস্তাটা এসেছিলাম। সেদিন অনেক গল্প হয়েছিল যুগির সঙ্গে। সবাই তার পেছনে লাগলেও আমি কখনই তাকে খেপাইনি। বাধা ছিল একটাই, তার অকথ্য গালিগালাজ। আর, পাড়ার মধ্যে সে আমাকে গালিগালাজ করলে তার খবর বাড়িতে এসে পৌঁছনোর খুবই সম্ভাবনা। এবং সেরকম ঘটে গেলে, আমার পিঠ বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসবে না, নিশ্চিত জানতাম। সেদিন যুগি নিজের অজান্তেই আমাকে প্রবল উদ্বেগের হাত থেকে রক্ষা করেছিল, তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই কি তাকে নিয়ে গল্প লিখতে চেয়েছিলাম ? গল্পে তাকে হাড়-মাংস সহ তুলে আনতে চেয়েছিলাম, কোনো অসম্মান ছিল না তাতে। বরং সে আমার পরিণত বয়সে সে আমার একটি নিটোল গল্প লেখার পরোক্ষ অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠায় এখনও আমি কৃতজ্ঞ তার প্রতি। জানি না সে এখন কোথায় বা আদৌ বেঁচে আছে কিনা। তাকে দেখিনি অন্তত চার দশক।


মর দেব
               জন্মঃ ১৯৬৩ সালের ১ নভেম্বর, কোচবিহারে। সাংবাদিকতার পেশা সূত্রে গুয়াহাটিতে বাস করেন ।  কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০১৫ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে সমর দেবের 'আলো অন্ধকার' কাব্যগ্রন্থের কবিতা ইংরেজি অনুবাদে পেশ করে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের মন্তব্যঃ ‘ইউরোপ-আমেরিকা শিখুক এই বাঙালি কবির কাছে’। কথাশিল্পী সমর দেবের উপন্যাস অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি, অসম সরকার কর্তৃক ভাষা গৌরব সম্মাননা লাভ করেছেন। 

তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিপ্রেক্ষিত, ১৯৮১ সালে লেখা এবং শিলিগুড়ির অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিত্রবিশ্ব পত্রিকায় ১৯৮৬ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ যযাতি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের তালিকায় রয়েছে প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যযাতি' ছাড়াও এক যুগ আত্মপ্রতারণা (উপন্যাস), একটি গল্পের সুলুক সন্ধান (উপন্যাস), লঙ্কাবরের উমেশ মাঝি (উপন্যাস), নীল অন্ধকার (উপন্যাস), লোহিতপারের উপকথা (উপন্যাস), আম্মা তেরা মুন্ডা (কাব্যগ্রন্থ), আলো অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ), বহুদর্শী কাক ও অন্যান্য কবিতা (কাব্যগ্রন্থ) এবং একমাত্র প্রবন্ধ সংকলন অমৃতযাত্রা।


মন্তব্যসমূহ

  1. টানা চারটে কিস্তি পড়লাম। এক কথায়, ‌‌‌‌‌‌‌unputdownable! প্রথম কিস্তির শেষে কামুর স্ট্রেঞ্জার মনে পড়ে গিয়েছিল।
    এই রচনার থিম মনকে বিষণ্ণ করে দিচ্ছে। মার খাওয়া মানুষের কথা তো খুব শুনিনি আমরা?

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চা- পাতা ৯৩

চা-পাতা ৯১

চা- পাতা ৯২