পোস্টগুলি

দোতারা - সুবীর সরকার লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দোতারা।। ত্রয়োদশ পর্ব

ছবি
'ও কি ও প্রাণনাথ আইসো আইসো রে প্রাণনাথ বৈস' এই লোকনাটকের দেশ,এই মদনকাম বিসহরা সাইটল কুশানের দেশ আমাদের উত্তর জনপদ।লোকগানের সুরে সুরে দুলে ওঠা এই ভূখণ্ডের মাটি মানুষ বাতাস।পূর্বজদের ধারা অনুসরণ করে নুতন প্রজন্ম চর্চা জারি রেখেছেন আমাদের বর্ণময় লোকসঙ্গীতের।দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের লোকগান।আমাদের অহংকার। হিমাদ্রী দেউড়ি।পেশায় শিক্ষক।এই তরুণ ভাওয়াইয়া সংগীত নিয়ে প্রবল যত্নবান।তার কণ্ঠের জাদু,মাধুর্য আর কারুকাজ গানকে পৌঁছে দেয় এক অনন্য উচ্চতায়। বাড়িতে ছিল গানের পরিমণ্ডল।বাবা লোকগানের সাথে ওতপ্রোত জড়িত।দিদি জয়শ্রী নিজে খ্যাতনামা শিল্পী। ভাওয়াইয়া নিয়ে হিমাদ্রীর স্বপ্ন আর শ্রম আর নিষ্ঠা আমাকে তীব্র চমৎকৃত ও চমকিত করে।আমি মুগ্ধ হই উত্তরের কৃষ্টি নিয়ে এই তরুনের নানান কর্মমুখরতা। হিমাদ্রী দেউড়ি,এক তীব্র স্বপ্নের নাম।

দোতারা।। দ্বাদশ পর্ব।।

ছবি
'ও মুই হাট ঘুরুয়া মানসি ও মুই তিস্তাদ্যাশের মানসি' কয়েক বছর আগে জল্পেশের ভরা হাটের পাশের খুলিতে একজন প্রায় অন্ধ সারিন্দাবাদকের বাজনা শুনে চমকে উঠেছিলাম।নিজের মনে আর একাগ্রতার তিনি বাজিয়ে চলছিলেন।আর তুলে আনছিলেন উত্তর জনপদের কত কত লোকগান।তিনি যখন সারিন্দা বাজাতে বাজাতে গাইছিলেন- 'বটবৃক্ষের ছায়া যেমন রে মোর বন্ধুর মায়া তেমন রে কুনদিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে' কিংবা- 'ও তুই কিসত গোসা হলু রে নালবাজারের চেংড়া বন্ধু রে' অথবা- 'বরণী ধানের ভাজিলুঙ খই প্রানের বন্ধু মোর আসিলেন কই' তাকে ঘিরে ছোটখাটো একটা  ভিড়।একটা স্তব্ধতা।দূরাগত তিস্তার হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে উত্তরের ভুমিলগ্ন মানুষের সম্পদ লোকগান। এই শিল্পীর নাম পোয়াতু বর্মন।ময়নাগুড়ির এক প্রান্তিক জনপদে বসবাস তার।এক হাট থেকে ছুটে বেড়ান আরো আরো হাটে।লোকগান নিয়ে।মানুষ মগ্ন হয়ে শোনেন সেই সব গান।হয়তো আশ্রয় খোঁজেন। পোয়াতু বর্মন গান শিখেছেন তার ঠাকুরদাদা ও বাবার কাছে।চেংড়া বয়সে পালাগানের দলে দোতরা বাজিয়ে নাচতেন।লোকগানের নেশাই তাকে লোকগানের বৃত্তে ঠেলে দিয়েছে। কঠিন অসুখ তার আশি শতাংশ দৃষ্টি কেড়ে...

দোতারা।। একাদশ পর্ব

ছবি
'ঝিকো ঝিকো কড়ি রে আঞ্চলে বান্ধিয়া রে যায় নীলমন গৌরীপুরের হাট রে নীলনন নিলাও না' ১৯৯৭ সালে গৌরীপুর শহরে এই গানটি আমাকে শুনিয়েছিলেন মীরান্দা চৌধুরী।সে ছিল আমার সহপাঠী।গৌরীপুরের মেয়ে মীরান্দা আমাকে গৌরীপুরের গল্প শোনাত।প্রতিমা বড়ুয়ার গল্প,লালজি রাজা আর শ্যামলেশ বড়ুয়ার গল্প।তিনশো বলির দুর্গাপুজোর গল্প।আর গেয়ে উঠতো মাহুত বন্ধুর গান- 'যেদিন মাহুত ভুটান যায় নারীর মন মোর কান্দিয়া রয় রে' তখনই বুঝেছিলাম এই মীরান্দা চৌধুরী একদিন অনেক বড়মাপের লোকশিল্পী হবে।গাইবে নিজের মাটি আর মানুষের গান।বন্ধু হিসেবে আমার আজ গর্ব হয়। গৌরীপুরের মীরান্দা এখন পাকাপাকি গুয়াহাটি।লোকগান নিয়েই মগ্ন আছেন।গোয়ালপাড়ার গান গাইছেন।গানকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।নুতন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করছেন।গানের সিডি পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে।আমি দূর থেকেই শুনতে পাই মীরান্দা চৌধুরীর গান- 'আরে কলসির পানি মাঝিয়ায় ঢালিয়া কলসি হইল মোর খালি রে হায়রে কলসিতে নাই মোর পানি রে'

দোতারা।। ১০ম পর্ব

ছবি
'হামার দ্যাশত বড় বাঘের ভয় রে সোনা রায় বাঘের পালে হামলা দিবার চায় রে সোনা রায়' কিংবা- 'কোড়ায় মারে ডুব ও মোর মনত নাইরে সুখ কোড়ার কানদং মুই না পাং রে সহিবার' অনেক বছর আগে এক প্রায় মধ্যরাতের শীতের কুয়াশায় ডুবতে বসা লোকগানের আসরে একের পর এক গোয়ালপাড়ার গান শুনে শুনে সর্বশরীরে কি এক উত্তাপ ও শিহরণ তৈরি হয়েছিল যার রেশ এখনও বহন করছি আমি।এই না লোকগান!এই তো গানের জাদু।গানের মায়া।গানের কুহক।পরবর্তীতে সেই জাদুকণ্ঠের শিল্পীর সাথে আমার নৈকট্য তৈরি হয়েছিল। রহিমা বেগম কলিতা।অসমের গোয়ালপাড়ার কৃষ্ণাই তে বসবাস।স্বামী মাধব কলিতা শিক্ষক।ভালো তবলা বাজান।রহিমারা গড়ে তুলেছেন গানের দল 'সারিন্দা'।অসম ও উত্তরবাংলায় তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী রহিমা বেগম কলিতা।তাকে গোয়ালপাড়ার লোকগানের রানী বলা হয়।প্রতিদিন নুতন করে নুতন গানের কথা ভাবেন।হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি ও গানকে সংরক্ষণের কথা ভাবেন।নুতন শিল্পীদের পাশে দাঁড়ান।আমি আমার বন্ধ চোখের ভেতর দেখি রহিমা কলিতা বেগম গাইছেন আর গানকে কুহক দিয়ে জড়িয়ে ধরছে বাদ্য ও বাজনা- 'এ পাড় থাকি না যায় দেখা রে নদীর ওই পাড়ের কিনার'

দোতারা।। ৯ম পর্ব।।

ছবি
প্রান্তিক ধুলোপথে অনন্ত গাড়িয়ালেরা গেয়ে চলেন মৈশাল বন্ধুর গান।গানের ঢেউ আছড়ে পড়ে লোকমানুষের এই দিনদুনিয়ায় ভিতর।আমরা শুনতে থাকি- 'আরে মৈষবাথানের চেঙরা মান্নান মিঞা তুই ক্যানে করিলু মোকে চৌকের ইশিরা' অঞ্জনা রায়।কোচবিহার জেলার চিলকিরহাট থেকে ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে উঠে এসেছেন।তার কণ্ঠের ম্যাজিক তাকে স্বতন্ত্র এক শিল্পীকে রূপান্তরিত করেছে। বাড়িতে বাল্য থেকেই লোকগানের পরিবেশ পেয়েছেন।নিকটাত্মীয় ত্রিফুল্ল রায় তথা গাটু বাবুর কাছে গানের প্রাথমিক পাঠ নেওয়া।গ্রামে শৈশব ও কৈশোরে বসতো পালা গান,কুশান পালা,বিষহরার আসর।বৈরাতি নাচ।সেই সব অঞ্জনাকে ক্রমে লোকসঙ্গীতের অদ্ভুত কুহকের ভেতর নিয়ে গেছে।একসময় বুঝে গেছেন,ভাওয়াইয়ার পাকে পাকেই ডুবে মরতে হবে তাকে। এই পরিণত বয়সে এসেও নিজেকে ব্যাপ্ত রেখেছেন লোকগানের মধ্যেই।আসলে,তিনি বুঝি গাইতেই থাকেন- 'গান গান করিয়া সর্বনাশ তবু না মেটে গানের হাউস গান করং মুই গাওয়াইয়া'

দোতারা।। ৮ম পর্ব।।

ছবি
*কবি সুবীর সরকারের কলমে     লোকশিল্পী মুনমুন বর্মণ  'কুচবিহারত হামার বাড়ি ঘাটাত দেখঙ ভইসা গাড়ি ভইসা গাড়িত ছই নাই ভইসের গলাত  ঘান্টি নাই গাড়ি চলে রে এলা কাদো রে পন্থে' লোকগান ভাওয়াইয়া আমাদের প্রাণ।আমাদের সম্পদ।লোকজীবনের আবহমান যাপনের ছবি ধরা থাকে এই গানে।কি এক মায়া!কি এক ম্যাজিক এই গানে! কত গুণী,কত নামী ও অনামী শিল্পীরা আবহমান কাল ধরে বহন করে আসছেন এই গানের ধারাবাহিকতা তাদের নিরলস চর্চার মধ্য দিয়ে। মুনমুন বর্মণ।মাথাভাঙ্গার মেয়ে।উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন।তরুণ প্রজন্মের মুনমুন বর্মণ তার কণ্ঠের স্বকীয়তায় শ্রোতাদের আগ্রহ অর্জন করেছেন।বর্তমানে বিবাহসূত্রে মেখলিগঞ্জে।মুনমুনের শুরুর দিনে আমি খুব কাছ থেকে তার একাগ্রতা,নিষ্ঠা ও আগ্রহ দেখেছি লোকগানের প্রতি।লোকগান নিয়ে নিরন্তর নিরীক্ষা করেছে সে। বাড়িতে ছোট থেকেই পেয়েছে ভাওয়াইয়ার পরিবেশ।বাবা মজেন বর্মন এবং কাকা,পিসিরা গানেরই লোক।মজেন বর্মন দোতরা,ঢোল বাজান।লোকগানের ভেতর দিন কাটাতে মুনমুনদের।বোন লোকনাচ করে।ভাওয়াইয়ার তালিম নিয়েছেন মাথাভাঙ্গার অনন্ত মাস্টারের কাছে।পরবর্তীতে নানান গুণী ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য তার জীবন ও...

দোতারা।।৭ম পর্ব

ছবি
' তুই যে ধন দিলু মোর দোতরা ও মুই ভুলির পারিম না' সন্তোষ কুমার বর্মণ । লোকশিল্পী। নিজেও ভাওয়াইয়া লেখেন।ময়নাগুড়ির পুটিমারী গ্রামে বাড়ি।বাড়িতে খুলেছেন ভাওয়াইয়া গান প্রশিক্ষণের স্কুল। বাবা ও মা শ্যামচন্দ্র বর্মন এবং জলেশ্বরী বর্মন এর কাছেই প্রাথমিক লোকগানের দীক্ষা নিয়েছেন।বাবা তুক্ষা গাইতেন।কীর্তন করতেন।পরবর্তীতে পেয়েছেন বিভূতিভূষণ মোদক (অন্ধ গিদাল) প্রেমানন্দ রায়,দীনেশ রায়,দীপ্তি রায়,আজিমুদ্দিন দের মতন গুনিজনেরা স্নেহ।শিখেছেন কত তাদের থেকে। ঝুঁকে পড়েছেন লোকগানের মরমী দুনিয়ায়। সারাজীবন গান নিয়েই থাকতে চান।লোকসংগীত ভাওয়াইয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে চান নুতন উদ্যমে।হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টিকে সংরক্ষণ করতে চান।নানা প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্রকে সঙ্গী করেই সন্তোষ কুমার বর্মনের নুতন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া।আর বুকের ভিতর থেকে তিনি গান ছড়িয়ে দেন, মায়া বিছিয়ে দেন- কোন বা দ্যাশে গেইলেন, মইষাল ও, আরে ও মইষাল,বাথান দ্যাখোঙ ধুয়া। তোমার বাদে এঁলাও আছে আঞ্চলের          গুয়া,মইষাল ও।     বন কাটিয়া বসত্ হইলেক রে, আরে ও মইষাল,গেইলেন তোমরা ছাড়ি। কোন জঙোলোত্ বাথান এলা,...

দোতারা।। ৬ষ্ঠ পর্ব।।

ছবি
 গোয়ালপাড়ার লোকগানের রানী প্রতিমা বড়ুয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু তার স্মৃতি।আবার মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার স্মৃতি।স্মৃতি আমাদের কাঁদায়,হাসায়,দূরাগত করে তোলে।50 ছুঁতে গিয়ে আজকাল স্মৃতির ধূসর তাঁবুর ভেতর আমি ঢুকে পড়ি।কষ্ট হয়।আনন্দও হয়।কত কত স্মৃতি জড়িয়ে এই যে অন্তহীন বেঁচে আছি আমি!জীবনের মূল্যবান স্মৃতিগুলোকে নিয়ে মাঝে মাঝে ভাবছি লিখবো।মনোবেদনার দহে ভাসিয়ে দেব কাগজের নৌকো।সেটা 1996 সাল।অসমের গৌরীপুর শহর।গৌরীপুর মানে একশো বলির দুর্গাপুজো,রাজা প্রভাত বড়ুয়া,রাজকুমারী নীহারবালা বড়ুয়া,রাজকুমার প্রমথেশ চন্দ্র বড়ুয়া আর লালজি রাজার ছড়িয়ে থাকা মিথগুলির শরীরে হাত রাখি।আমার বন্ধ চোখের সামনে ছুটে আসে সেই কবেকার এক পৃথিবী থেকে হাতি মাহুত ফান্দি আর হাতি মাহুতের কত কত গান।ইতিমধ্যেই প্রমথেশের 'মুক্তি' ছবিতে দেখেছিলাম রাজকুমার পিসি বড়ুয়ার প্রিয় হাতি জংবাহাদুরকে।যাকে নিয়ে রচিত হয়েছিল গোয়ালপাড়ার লোকগান, কালী দাশগুপ্ত যা সংগ্রহ করে গেয়েছিলেন- ' বালাকুঠির ওরে টোকন ব্যাপরী তেরশো টাকা দিয়ে ব্যাপারী  কিনিয়া রে আইনছেন হাতি আরে জংবাহাদুর হাতির নাম তেরশো টাকা হাতির দাম ...

দোতারা।। ৫ম পর্ব।।

ছবি
দোতারা ।।  ৫ম পর্ব ।। কবি সুবীর সরকারের কলমে লোকশিল্পী ললিত চন্দ্র রায়   ' বাচ্চা বাপই সোনার চান্দ গরু দুইটা আইলত বান্ধ' উত্তরের মাটির গান।প্রানের গান।শরীর ও মনে এক সুরের আবেশ জড়িয়ে ধরে।যার রেশ থেকেই যায়।কত কত নুতন গান লিখছেন গাইছেন জানা অজানা কত লোকশিল্পী।পূর্ন হয়ে উঠছে আমাদের লোকগানের ভান্ডার। লোকগানের মধ্য দিয়েই তো উঠে আসে লোকজীবনের জীবন্ত সব ছবি।দৈনন্দিন যাপনের কথা। 'বাউকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে ওই মতন মোর গাড়ির চাকা পন্থে পন্থে ঘোরে ও কি গাড়িয়াল মুই চলং রাজপন্থে' একদিন এই অদ্ভুত গতিময় গানটি শুনেছিলাম ললিত চন্দ্র রায়ের কণ্ঠে।ললিত চন্দ্র রায় অসমের গোলকগঞ্জ অঞ্চলে থাকেন।পেশায় শিক্ষক এই গানে ডুবে থাকা মানুষটি লোকগানের প্রচার ও প্রসারের কাজেও কাজ করে যাচ্ছেন। ললিত চন্দ্র রায় চটকা গানে অত্যন্ত পারদর্শী।বেতার ও দুরদর্শন সহ নানা জায়গায় গানের পর গান গেয়ে চলেছেন তিনি।মঞ্চে তিনি জাদুকরের মতন।মাতিয়ে তোলেন দর্শক শ্রোতাদের। প্রতিমা বড়ুয়া,আলাউদ্দিন সরকার,আব্দুল জব্বার,কেরামত আলী,মানিক আলী-র সান্নিধ্য পেয়েছেন। তৈরি করেছেন উত্তরসূরি।পরবর্তী প্রজন্মের লোক...

দোতারা।। ৪র্থ পর্ব

ছবি
'শ্যাম কালা ওরে শ্যাম কালা ছাড়িয়া দে মোর শাড়ির আঞ্চল যায় বেলা' কিংবা- 'আস্তে বোলান গাড়ি  রে গাড়িয়াল ধীরে বোলান গাড়ি আরেক নজর দেখিয়া নেও দয়ার বাপর বাড়ি রে গাড়িয়াল' উত্তরের এই সব লোকগানের সুর,শিল্পীর গায়নভঙ্গি,লোকবাদ্য সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক ম্যাজিক ছড়িয়ে দেয়।শ্রোতার সমস্ত শরীরে গান তার সমস্ত সুরসমেত ঢুকে পড়তে থাকে। এই হলো আমাদের লোকগান।আমাদের অহংকার। লোকশিল্পীরা বহন করে চলেছেন এই লোকগানের ধারা। আজ বলবো পারভীন সুলতানার কথা।প্রায় 25 বছর ধরে পারভীনের গান শুনে আসছি।মুগ্ধ হয়েছি বারবার।দেখেছি সংগীতে কি প্রখর ডুবে যান,নিমজ্জিত হন পারভীন।নিজেকে সৎ ও পরিশ্রমী নিরীক্ষায় লিপ্ত রেখে আজ পারভীন সুলতানা নিজেই একটি স্বতন্ত্র উচ্চারণ। দিনহাটার মেয়ে পারভীন সুলতানা এখন কলকাতায় থাকেন।প্রায় প্রায়ই চলে আসেন উত্তরাঞ্চল তার গানের ডালি নিয়ে। বাড়িতে গানের পরিবেশ বাল্য থেকেই তাকে লোকসংগীতচর্চায় আগ্রহী করেছিল। বাবার কাছে শিখেছেন গান। বোন রুনা লায়লাও ভালো লোকগান গাইতেন। কীর্তন ও ভক্তিগীতি গেয়েও পারভীন সুলতানা সুনাম অর্জন করেছেন। বেতার ও দুরদর্শনে নিয়মিত ভাওয়াইয়া পরিবেশন করেন তিনি। ...

দোতারা।। ৩য় পর্ব

ছবি
                      সদ্য প্রয়াত সাইটোল রাণী ফুলতী গীদালীঃ উত্তরের লোকজীবনের আয়না সুবীর সরকার মাইল মাইল হলুদবরণ সরিসার খেত চারদিকে।এক বেটেখটো বৃদ্ধা ঘুরে ঘুরে নাচছেন,ঢাক ও ঢাকির শরীরের দুলুনির সঙ্গে আর মৃদু সুরে গাইছেন_ ‘দুঃখ কপালের লেখা,মৃত্যু লেখা পায়রে আহারে দারুণ বিধি খন্ডন না যায়’ বৃদ্ধার চোখে আনন্দের অশ্রু।জরা তাকে নাচ আর গানের জীবন থেকে সরিয়ে রাখতে পারে নি।বৃদ্ধা হাঁফাচ্ছেন।অথচ তার চোখে ছানি,কিন্তু ছানি কাটাবার পয়সা নেই।বৃদ্ধা যে শাক কুড়িয়ে,ঘুটে বিক্রি করে সংসার চালান।আর গাননাচের দুনিয়ায় গনগণে এক জীবনেই ডুবে থাকেন।মজে থাকেন। আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে দেখা দৃশ্যটিকেই ফিরিয়ে আনলাম এই লেখার শুরুতেই।সেই বৃদ্ধা এখন খ্যাতি,পরিচিতি অর্জন করেছেন।সেভাবে আর্থিক দৈন্যতাও আগের মতন নেই।আজ প্রায় ঘরবন্দী তিনি।শ্বাসকষ্টে ভোগেন।জরার থাবা শরীরময়।কিন্তু গান ছাড়েনি তাকে।তিনি আর কেউ নন।তিনি ফুলতি আবো।ফুলতি গীদালি।জনমানুষের কাছে তিনি ‘সাইটোল রাণী’। পশ্চিমবাংলার উত্তরখন্ডের ৭ টি জেলা নিয়ে বর্তমান উত্তরবাংলা নামক ভূ...

দোতারা।। ২য় পর্ব।।

ছবি
'কুচবিহারত হামার বাড়ি ঘাটাত দেখঙ ভইসা গাড়ি ভইসা গাড়িত ছই নাই ভইসের গলাত  ঘান্টি নাই গাড়ি চলে রে এলা কাদো রে পন্থে' লোকগান ভাওয়াইয়া আমাদের প্রাণ। আমাদের সম্পদ।লোকজীবনের আবহমান যাপনের ছবি ধরা থাকে এই গানে। কি এক মায়া! কি এক ম্যাজিক এই গানে! কত গুণী,কত নামী ও অনামী শিল্পীরা আবহমান কাল ধরে নিরন্তর ভাবে এই লোকগানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।এখনো তা বহমান।    নজরুল ইসলাম। লোকমুখে নজরুল গিদাল।পেশায় পুলিশকর্মী নজরুল ইসলাম একজন জাত শিল্পী।নিরলসভাবে ভাওয়াইয়া নিয়ে ভাবেন তিনি।নিজেকে বদলান বারবার।নাটাবাড়ির নজরুল গিদাল শুরু করেছিলেন লোকনাট্যে অভিনয় ও নাচের মধ্য দিয়ে।পেয়েছিলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ,মালতী নারায়ণ,জনাব আলাউদ্দিন সরকার,পর্বানন্দ দাসের সান্নিধ্য।পরবর্তীতে আব্দুল জব্বার,কেরামত আলীর বন্ধুত্ব তাকে ঘিরে ধরেছিল।নিজে গান লেখেন নিয়মিত।সুরারোপ করেন নিজেই।অসম্ভব জনপ্রিয় আজ তিনি।    'মনের আয়না' ভীষণ প্রচারিত গানের এলব্যাম তার।উত্তরবঙ্গ অতিক্রম করে কলকাতা,অসমে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি। নজরুল গিদাল কেবলমাত্র লোকগান গান না। তিনি প্রতিমুহূর্তে গান নিয়ে সাধনা করেন। গান নি...