চা-পাতা ১০০

           কবি কমলেশ রাহারায় স্মরণ সংখ্যা

কবি কমলেশ রাহারায় ।  জন্ম ৬ মার্চ ১৯৪৬, অধুনা বাংলাদেশের রংপুর জেলার উলিপুর গ্রামে । ১৯৭১ সালে আলিপুরদুয়ার কলেজে বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিভাবে চাকরি এবং ২০০৬-এ অবসর গ্রহণ । কবিতা লেখালেখি ষাটের দশক থেকে । সম্পাদনা করেছেন 'মাদল', 'সাগ্নিক', 'শিলালিপি' পত্রিকা । পেয়েছেন অনেক স্মারক সম্মাণ । কবি পরলোক গমন করেন ৩১ ডিসেম্বর ২০২১।

কবির প্রকাশিত কয়েকটি কবিতা














** ক  *বি*   তা   **

সুদীপ্ত মাজি

মন কেমনের লেখা

(উৎসর্গ : কবি কমলেশ রাহারায়)

 সেতুর এপারে আলো

ওপারে নিকষ অন্ধকার...

 

নিচে নদী। ছোট নৌকো। অসমাপ্ত ঢেউ...

 

মাঝিদের জাল, ঝাঁঝি, পলি ও পাথর...

ঘাটে বসে আছে

অস্থি বিসর্জন দিতে জলে নামা

                                   অস্পষ্ট কেউ...


 নৈঋতের দিক থেকে হাওয়া বইছে জোর...


 তার মুখে জেগে উঠছে ফেলে রেখে যাওয়া

তোমার মুখশ্রী, মায়াঘোর...


****************************

প্রশান্ত দেবনাথ

একা বসে আছি

অনেক দিন পর এসেছি কবির 

ঘরে, প্রিয় কবি আর নেই কথাটি বিশ্বাস করতে গিয়ে 

মনে হল কী যেন মোচড় দিচ্ছে বুকের

ভিতর, যা বলার তা জড়িয়ে যাচ্ছে 


কবি দেখা হলেই বলতেন 

শিকড় থেকে মাটি সরে যাওয়ার কথা, বলতেন 

ভেসে যাওয়া শৈশবের কথা, বসন্তের বিকেলে 

অনন্তের কাব্য লিখতেন কবি


এইসব কবিতা শুনতাম, আজ একা বসে 

আছি,বোলতার মতো ঘিরে ধরছে স্মৃতি


****************************

অম্বরীশ ঘোষ
কমলেশ রাহারায়কে
                       
তুমি ছুঁয়ে গেলে
 আমার ধুলো ওড়া ধু-ধু রাস্তায় 
আকাশ ঝুঁকে এসে চুমু মেখে দেয় 

তুমি কাছে ডাকলে
নৌকার মতন ভাসতে থাকা বছরগুলোতে
সাফল্য এসে স্তন্যপান করিয়ে দেয় 

তুমি সান্নিধ্য দিলে 
দাড়িকমা জীবনের বিকলাঙ্গ অভিমান 
নীরব শব্দতরঙ্গের অভিধান পাঠায় 

তুমি ছায়া দিলে 
অস্ত পেরোনো উদয়ের আড়মোড়া ভেঙে 
তাল তাল সম্ভাবনার মোড়ক খুলে যায়

****************************

 ** গ দ্য **

উ ত্ত ম   চৌ ধু রী 

আন্তরিক সমীক্ষায় কবি কমলেশ রাহারায়


আলিপুরদুয়ারের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে উন্নত করবার জন্য যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের মধ্যে কবি কমলেশ রাহারায় অন্যতম। প্রকৃতই কবিমনের। কথাবার্তা,আচার-আচরণ ও নিবিড় আড্ডায় এই বৈশিষ্ট্যগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। এমন একজন মানুষের  সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটেছিল আলিপুরদুয়ার কলেজে ১৯৮২ সালে, কলেজের রজত জয়ন্তী উৎসবে। কৃষ্ণবর্ণ, লম্বা ছিপছিপে, সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা, পায়ে হাওয়াই চপ্পল ও ঘাড়ে ঝোলানো ব্যাগ। স্বরচিত কবিতা পাঠের জন্য আমন্ত্রিত। সেবার কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। 

সে সময়ে গোটা উত্তরবঙ্গ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কমলেশদা। অনেক নতুনদেরও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। স্বরচিত কবিতা পাঠকে তিনি শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

সংগীতের জগতে তাঁর অবাধ বিচরণ আমরা লক্ষ্য করেছি। সাবলীল গাইতে পারতেন গণসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গান। চালিয়ে দেবার মতো তবলা বাজানোটাও শিখেছিলেন। সুস্পষ্ট ও সুন্দর করে লেখার জন্য সবসময়ই সচেষ্ট থাকতেন। লেখার শেষে এন্ডিং মার্ক হিসেবে গোলাকার চিহ্ন আঁকবার অভ্যাস ছিল।

আড্ডাপ্রিয় এই মানুষটি নতুন মুখের দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকতে ভালোবাসতেন। যাদের  কবি হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনাও ছিল না তাদেরকেও যথেষ্ট প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। নতুনরা কিছুদিন এ জগতে থাকলে পত্রিকা ও নতুন কবিতার বই প্রকাশে উৎসাহ জোগাতেন। প্লাবন, স্রোত, হিজল এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের আবার নামও বদলে দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নিখিল চন্দ্র রায় হয়েছেন এ সময়ের নিখিলেশ রায় কিংবা লাল স্বরণ হয়েছেন সমীরণ শিকদার।

কবি জগন্নাথ বিশ্বাস এবং কবি বেণু দত্তরায়ের খুব কাছের লোক বলে কমলেশদার একটি পরিচয় ছিল। এদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনেকেই কমলেশদার ওপর নির্ভর করতেন।

কবিমনের স্বাভাবিক ধর্ম কিছু কিছু বিষয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা বা সাংসারিক ও সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে অনেক সময় পালিয়ে যাওয়া। ব্যাপারটিকে এস্কেপিজম বলা হয়। সেই অর্থে কমলেশদা পিওর এস্কেপিস্ট। তবে কখনও প্রচারবিমুখ ছিলেন না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে এসেছিলেন, তার উজ্জ্বল নিদর্শন রয়েছে  অজস্র তোলা ফটোতে।

এক ধরনের ব্যস্ত-অলসতা ক্রিয়াশীল ছিল কমলেশদার মধ্যে। নির্দিষ্ট এক বিন্দুতে নিবিষ্ট ছিল না তাঁর মন। কিছুটা আলসেমি বা অনিচ্ছায় দীর্ঘদিন প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিপরীত বসন্ত'(১৯৯৫) প্রকাশিত হওয়ার পর আর কোনও কাব্যগ্রন্থ বের হয়নি। শেষ কাব্যগ্রন্থ 'লিনোকাটে তাপ নিচ্ছি' বেরিয়েছিল ২০১২ সালে।

দীর্ঘদিন সাহিত্য সাধনায় মগ্ন থেকেছেন। কবিতার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বা ছন্দের অতটা ধারেকাছে না গিয়ে তিনি সমসাময়িক আধুনিক কবিতার হাত ধরে হেঁটেছেন। তাঁর কবিতায় পোস্টমডার্নিজমের ট্রেন্ড খোঁজা বৃথা। তবে চিত্রকল্প,শব্দচয়ন,কবিতার টানটান বক্তব্য ও ভাবনার গভীরতা শিক্ষিত পাঠককে মুগ্ধ রেখেছিল। তাঁর প্রয়াণ অপূরণীয়।




সু বী র   স র কা র

আপনি থাকবেন, খুব থেকেই যাবেন প্রিয় কমলেশদা


কবি কমলেশ রাহারায়। আলিপুরদুয়ার শহরে থাকতেন। পত্রিকা করতেন। কবিতার সভায় ঘুরে বেড়াতেন। নুতন স্বর আবিষ্কারের নেশা ছিল কমলেশদার। স্বতন্ত্র এক ঘরানায় কবিতা পাঠ করতেন। সেই পাঠ খুব ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেত। তরুণ লেখকদের জন্য এক বুক ভালোবাসা বহন করতেন কমলেশদা। এমন আড্ডাবাজ আর স্বপ্ন দেখানো অগ্রজ এই সময়ে খুব বিরল হয়ে আসছে। আমার শুরুর দিনগুলিতে কমলেশদার স্নেহের স্পর্শ, সান্নিধ্য আমাকে অনেকটাই গড়েপিটে দিয়েছিল।আজ, এত এত বছরের দূরত্বে দাঁড়িয়ে খুব অনুভব করি সেটা। আমি প্রতি মাসে ৩/৪ বার চলে যেতাম কমলেশদার কাছে।আলিপুরদুয়ার হাসপাতাল কোয়ার্টারে কমলেশদার তৎকালীন বসবাস। আজকের তরুণ কবি কমলেশদার ছেলে অরুণাভ রাহারায় তখন খুব ছোট। কবি কমলেশ রাহারায়ের সঙ্গে আড্ডা মানে প্রচুর রসদ পেয়ে যাওয়া। কবিতার পর কবিতা পড়ে যেতেন। শুধু নিজের নয়। উত্তরের কবিদের কবিতা পড়তেন। তাদের কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন। বাংলার অনেক লিটিল ম্যাগাজিনের সাথে পরিচয় গড়ে উঠেছিল কমলেশদার সূত্রেই।
আমার কবিতা মন দিয়ে শুনতেন। কখনো দুই তিনবার করে পাঠ করতে বলতেন। নিজে দেখে দিতেন আমার কবিতার খাতা।মাঝে মাঝে কবিতা পাঠের আসরে আমাকে সঙ্গী করতেন। কত নুতন মানুষের সাথে পরিচয় হত।
কমলেশ রাহারায়ের সূত্রেই পরিচয় এবং তার পর নৈকট্য গড়ে উঠেছিল কবি সমীর চক্রবর্তী, কবি তনুময় সরকার, কবি দীলিপ বিশ্বাস, কবি শিপ্রা সেন ধর, কবি সনৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
এরপর তো তনুময় সরকার আর "চারুমুদ্রণ" আমার জীবনে এক ঝলক তেজি বাতাসের মতন হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো।
কবি কমলেশ রাহারায় আজ ব্যাধি আক্রান্ত। কিন্তু এখনও দেখা করতে গেলেই সেই সুতীব্র আবেগময় খুশিয়াল উৎসাহী চোখ আমাকে তুমুল স্পর্শ করে।
এমন অগ্রজের সান্নিধ্য আর স্নেহ অর্জন যে কোন তরুণের কাছে অনবদ্য প্রাপ্তি।
খুব লিখলেন না পরের দিকে আর কমলেশদা।
আমি ওনাকে বলেছি নিজের কবিতা জীবনের কথা লিখতে, যা পরের প্রজন্মের কাছে সম্পদ হয়ে উঠবে।
এখনও মাঝে মাঝে কবি কমলেশ রাহা রায়ের "বিপরীত বসন্ত" বইটি আমাকে পড়তে হয়।
আর আমি স্পষ্ট দেখতে পাই ঝকঝকে দুই চোখে জীবনের আলো মেখে কবিতা পড়ছেন বাতাসে আঙুলের আঁচড় কাটতে কাটতে আমাদের কমলেশদা।
এই সব মিলিয়েই তো আমাদের বাংলা কবিতা।
আরো অনেক কাজ করতে পারতেন কমলেশদা।
শরীর সঙ্গ দেয় নি। মাত্র দুটি বই তাঁর
খুব ভালো হত যদি গদ্য লিখতেন কমলেশদা। দীর্ঘ কবিতা জীবনের বাঁক গুলি ধরা থাকতো তাতে। কেমন ছিল সেই সময়ের উত্তরের,ডুয়ার্সের কবিতার ভুবন। কারা লিখতেন। কারা হারিয়ে গিয়েছেন লেখা থেকে। উত্তর প্রজন্মের কাছে একটা দলিল হয়ে থাকতো সেই গদ্য।
কবি পুত্র অরুণাভ সামান্য কিছু কথা সম্ভবত ধরে রেখেছেন। পরে কমলেশ দাকে নিয়ে ভালো কাজ হতে পারে।অপ্রকাশিত লেখা নিয়ে একটা বই হওয়াও জরুরী।
কবির শারীরিক চলে যাওয়া হয়।
কিন্তু কবির মৃত্যু হয় না।
কমলেশ রাহারায় থাকবেন আমাদের খুব অন্তর্গত কবিতা ভুবনের ভিতরেই ।



ক ল্যা ণ   হো ড় 

স্মৃতিতে কমলেশদা
         

   কমলেশদাকে নিয়ে কিছু বলতে গেলে আমাকে ফিরে যেতে হবে সেই শৈশবে, তখন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস টু সম্ভবত। আমাদর পাড়ায় মানে সূর্যনগরে আমাদের বাড়ির অপজিটেই ছিল গোস্বামী ভবন । সেখানেই কমলেশদা ওনার মা ও বাবাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন । তখন তিনি উঠতি যুবক আর ঐ গোস্বামী ভবনের মালিকের নাতি অলক গোস্বামী ছিল আমার বন্ধু। ওদের বাড়ির সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা ছিল, ওখানেই আমরা খেলাধূলো করতাম। কমলেশদা হারমোনিয়াম বাজিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন। আমি আর অলক গান শুনতে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াতাম উনি বলতেন 'কিরে বাইরে কেন ? ভেতরে এসে বস'। এরপর একদিন তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে আর দেখা হয়নি কোনদিন,  আমিও বড় হয়ে গেলাম। পরবর্তীতে ৭০ এর দশকের শেষের  দিকে বা ৮০ এর দশকের শুরুতে আমি যখন লেখালেখির জগতে আসি, একটা কবি সম্মেলনে গিয়ে দেখি সেই ভদ্রলোক। আমাকে ওনার চেনার কথা নয়, আমি নিজেই কাছে গিয়ে পরিচয় দিলাম  উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ব্যাস পথ চলা শুরু কমলেশদার সঙ্গে, আর থামিনি। বাস্তবে কমলেশদা সঙ্গীত জগতের মানুষ ছিলেন পরবর্তীতে সম্ভবত ১৯৭১ এ কমলেশদা, বেনুদা ও আরো কয়েকজন মিলে একটা পত্রিকা বের করেন নাম দেন বিনিদ্র। সম্পাদক হলেন কমলেশদা এবং সহ সম্পাদক বেনু সরকার। পরবর্তীতে কমলেশদা বাইরে চলে যাওয়ায় সম্পদক হন বেনুদা। এভাবেই কমলেশদা ধীরে ধীরে সঙ্গীত জগতের থেকে কিছুটা  সরে গিয়ে কবিতার ভূবনে নিমগ্ন হয়ে যান। কবি হিসেবে কমলেশদা ছিলেন একদম ভিন্ন মাত্রার। তাঁর প্রতিটি শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন একদমই অন্য একটা ধারা বয়ে এনেছিল। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে তিনি অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। মানুষ হিসেবেও খুব ভালো ছিলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে ভালোবাসতেন। কমলেশদাকে নিয়ে এতো কম কথায় লেখা শেষ করা যায় না কিন্তু ই ম্যাগাজিনে এতো কথা লেখা সম্ভব নয় তাই থামতে হচ্ছে। গত ৩১ শে ডিসেম্বর রাত ৯ টায় তিনি পরলোকে গমন করেন মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য ২০২২ -র সূর্যোদয় দেখা আর হলো না। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি ও শ্রদ্ধা জানাই।


ড.  স ঞ্চি তা   দা শ 

কবি কমলেশ রাহারায়কে মনে করে 
           
 সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন কবি কমলেশ রাহারায়, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই  আজ আমার দু'চার কথা। কমলেশ রাহারায় কবিতার জগতে একটি বিশিষ্ট নাম । আলিপুরদুয়ারের সাহিত্য জগতে জগন্নাথ বিশ্বাস,  বিমল ভট্টাচার্য, সমীর চক্রবর্তীর পর পরই কমলেশ রাহা রায়ের আগমন। বরাবরই  আলিপুরদুয়ারকে বলা হয়  কবির শহর কারণ এখানে কবির সংখ্যা যেমন বেশী যেখানে সেখানে চলে কবিদের আড্ডা, তেমনি কবিতা  নিয়ে চলে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা, লেখা হয় উন্নত মানের কবিতা। এখনকার বেশ কিছু কবি বাংলার কবিতা জগতে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য কবি কমলেশ রাহা রায় । কমলেশদার কবিতা  অন্য মাত্রা বহন করে , পাঠককে অনেকক্ষণ ভাবায়, জারিত করে ।  তিনি  কবিতার ক্ষেত্রে এক ভিন্ন ধারার প্রবর্তক। তাঁর কবিতার শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস, গূঢ় অর্থ বোধ পাঠককে চমৎকৃত করে । শুধু নিজের কবিতার জগতেই আত্মমগ্ন ছিলেন না অনুজ কবিদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল তাঁর  কবি পরিমণ্ডল । তাঁর দ্বার ছিল অবারিত আর সেখানে সব কবি ও সম্পাদকদের ছিল অনায়াস যাতায়াত । সদাহাস্য কমলেশদা সকলেরই প্রিয় দাদা, সকলকে উৎসাহ দিতেন। দীর্ঘ জীবনের সাহিত্য সাধনার সমস্ত কবিতা থেকে নির্বাচিত কবিতা নিয়ে দুটো কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে "বিপরীত বসন্ত "এবং "লিনোকাটে তাপ নিচ্ছি "।  শান্ত অবয়ব, মিতভাষী, সদাহাস্য এই শক্তিশালী কবি পরবর্তী কবি প্রজন্মের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
    কমলেশ রাহারায়ের সঙ্গীত শিল্পী হবারই কথা ছিল তার সঙ্গী এবং সহপাঠীদের এমনটাই বক্তব্য । তিনি  একসময় অনেক অনুষ্ঠানে  সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।  তিনি ছোটবেলায় স্কুল পড়াকালীন সময়ে ক্লাসে দু'হাতে  টেবিল বাজিয়ে বেঞ্চ বাজিয়ে উচ্চস্বরে গান গাইতেন । এছাড়াও সে সময় ছিলেন অত্যন্ত দুরন্ত ও ডানপিটে ।  হাতের আঙ্গুলগুলিতে আংটির মতো পাঞ্চ পরে ঘুষি মারার জন্য প্রস্তুত থাকতেন আর হাতের কব্জিতে সবসময় সাইকেলের চেন বেঁধে রাখতেন। কমলেশদা প্রথমে ম্যাকুইলিয়াম হাইস্কুলে  এবং পরে কলেজিয়েট স্কুলে পড়েছেন । কলেজিয়েট স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তাঁর আমূল পরিবর্তন ঘটে, তখন থেকেই তিনি দুরন্তপনা ছেড়ে সাহিত্য সংস্কৃতিতে মনোনিবেশ করেন। 
 আমি কমলেশদাকে চিনেছি তাঁর কবিতার মধ্য দিয়ে । সময়টা ১৯৭৩ / ৭৪  সাল সেই সময় দামণপুর থেকে প্রকাশিত হতো "বনমহল" পত্রিকা সেই পত্রিকাতে আমি লিখতাম এবং কমলেশদার কবিতাও পড়তাম, তখন আমি শামুকতলার মহাকালগুরি মিশন হাই স্কুলের  ছাত্রী। পরবর্তীতে কর্মসূত্রে আলিপুরদুয়ার এ এসে কমলেশদার সঙ্গে পরিচয় হয় এবং আমাদের অনেককে নিয়ে একটা কবি পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে । কমলেশ দা তখন আলিপুরদুয়ার হাসপাতালের সাস্থ্যকর্মী । তাঁর হাসপাতালের কোয়াটারে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের যাতায়াত ছিল। তখন ওটাই ছিল আমাদের আড্ডা স্থল, প্রায়ই সান্ধ্য বাসরে কবিতা পাঠ চলতো। এইভাবে তাঁর স্নেহছায়ায় বেড়ে উঠেছে অনেকেই ।



ম ধু মি তা   চ ক্র ব র্তী 

প্রচার বিমুখ একটি সত্বা

তোমাকে  তুমি করেই বলতাম কমলেশ দা।  কবিতার  অমোঘ নেশায় টালমাটাল  তোমার আঙুল ধরেছিলাম,  সে আজ কত যুগ পেরিয়ে  এখনো ধরে আছি। 
শহর থেকে দূরে চেচাখাতায় তোমার বাসা তখন। কোয়ার্টারে আসোনি, সাইকেল চালিয়ে আপনভোলা  তোমাকে দেখতাম কর্মস্থলে আসতে।   চেচাখাতার বাড়িটা ছিল সৃজন আবাস। কবিতা তো তোমার অন্তরে,  গলায় ছিল মোহবিস্তারি সুরের মায়াজাল। মুগ্ধ  হয়ে যেতাম।

কবিতায় তুমি বড় নির্জন।  যেন নিজের সাথে নিজের গোপন বাঁটোয়ারা। সুখ ও দুঃখের।
প্রকৃতি  এসেছে, এসেছে অলিখিত  অনাস্বাদিত প্রেম। আর অতলান্ত  গভীরতা।  

এতটাই  প্রচার বিমুখ,  বাংলার সেরা কবিদের সাথে ছিল নিত্য সংযোগ অথচ কখনো তার আভাসটুকুও গলা বাড়িয়ে বলতে শুনিনি। 

উত্তরবাংলা ছাড়াও  রাজ্যব্যাপী অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনে তোমার নীরব উপস্থিতি। অথচ, সারাজীবনে মাত্র  দুটি  কবিতার বই!

তুমি চলে গেলে। থেকেও গেলে আমার মতো, আমাদের মতো কিছু মানুষের হৃদয় অভ্যন্তরে,  বিষাদ  ও আনন্দের  মিলিত অনুভবে।
কমলেশদা, তুমিই তো বলেছিলে, " নিজেকে বিপন্নতার খাদের কিনারায় না নিয়ে এলে কী কবিতা লেখা যায়!



মি হি র   দে

বিপরীত বসন্তের কবি কমলেশ রাহা রায়

"তবু যাই,
যেতে দাও শঙ্খসাদা অন্ধকারে"

সত্যিই আজ তিনি মিলিয়ে গেছেন কোনও এক শঙ্খসাদা অন্ধকারে। যেখানে নতুন করে সাজিয়ে তুলবেন কবিতার জগৎ। আবারও হয়ত যার মধ্যমনি হবেন তিনি। যে অন্ধকার ভেদ করে সাধারনের পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতএব তিনি নিভৃতে চালিয়ে যাবেন তাঁর কবিতা চর্চা।

"গাছ এবং মানুষ একাকার
যদি ঘুম আসে
পরস্পর কথা বলো সারারাত সারাদিন"

এখন তিনি অনন্ত ঘুমের দেশে। যে ঘুমের দেশ থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। হয়ত সেখানে এক নতুন কাব্য জগৎ সাজানো আছে। প্রকৃত কবি জন্মই হয়ত সেই চিরন্তন জগতের অধিকারী। যারা অনেক আগে থেকেই সাজিয়ে রেখেছেন অনন্ত সজ্জা। রজনীগন্ধা সমৃদ্ধ কবি বাসর। সান্ধ্যকালীন আড্ডা। যেখানে জাগতিক কোনও মায়া ছুঁয়ে যেতে চাইলেও সম্ভব নয়। এই অনন্ত ঘুমের দেশে সারাদিন সারারাত ধরে কথা বলাই যেতে পারে। সেখানে শুধুই গাছ, গাছ আর গাছেদের ছায়া।

"শোকার্ত মেঘের মালা তুলে দাও কাঙ্খিত হাতে
এই হাতেই আজ লেখা হোক আমার কবিতা"

এই বিষন্ন দিনে সত্যিই আজ মেঘেরা শোকার্ত। চারিদিকের বাতাস গুমোট হয়ে আছে। আরোগ্য কামনায় তিনি নিজেই ভেসে গেছেন একা অনন্তের দিকে। তাই মেঘেদের মালা কাঙ্খিতই রয়ে গেছে। যে যাত্রা অন্ধকার থেকে অন্ধকারের দিকে। অজস্র কবিতাই যার একমাত্র সঙ্গী।
কবি কমলেশ রাহা রায়। বাংলা ভাষার এক স্বতন্ত্র ঘরানার কবি। যার নিজস্ব একটা বৈচিত্র রয়েছে কবিতায়। রয়েছে নিজস্ব বাচনভঙ্গি। আমার সাথে যার সম্পর্ক দীর্ঘ ১৪ বছরের। ২০০৮,  অরুনাভ তখন একাদশের ছাত্র। দর্শন পড়ার জন্য আমার কাছে আসা। ধীরে ধীরে ছাত্র–শিক্ষকের বাইরেও আলাদা একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে আমাদের। আমাদের যাতায়াত বাড়তে থাকে কবিতাকে কেন্দ্র করে। কখনও আমার বাড়ির ছাদে, কখনও অরুনাভর ঘরে, আবার কখনও অন্যত্র এই আড্ডা চলতে থাকে।
সেই সূত্রেই পরিচয় কবি কমলেশ রাহারায়ের সঙ্গে। আমার যাতায়াত অবাধ হয়ে যায় সেই বাড়িতে। কবি কমলেশ রাহারায় হয়ে উঠলেন কমলেশকাকু। আমাদের পারিবারিক একটা সখ্যতাও বেড়ে উঠলো। প্রায় রোজ দিনই নিয়মিত যাতায়াত ছিল আমার। কোনও একদিন না গেলেই কাকুর ফোন "কি রে অনেক দিন হয়ে গেল তুই আসছিস না যে ?"  আসলে এই মানুষটা এমনই ছিলেন। প্রতিদিনই আমাকে লেখার প্রতি উৎসাহ দিয়ে যেতেন। কাকুর নাছোড়বান্দায় ২০১১ সালে আমার সম্পাদিত পত্রিকা কবিকুঞ্জে'র আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে কাকুর ঘরেই মাধবমোড়ের আড্ডা নিয়ে একটা বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন হয়েছিল। শেষের দিকে যে কোনও অনুষ্ঠানে যাবার আগেই বলে রাখত আমাকে নিয়ে যাবি। অনেকের কাছেই বলতে শুনেছি "এখন মিহির–ই তো আমার ভরসা"। এই স্নেহ শুধু কবিতার জন্য নয়, এ যেন পুত্রসম স্নেহ। অনেক স্মৃতি, অনেক কথা, কিন্তু লিখতে পারছি না।

তুখোর আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন। তরুন প্রজন্মের দিকে একটা তীক্ষ্ণ নজরও ছিল বরাবর। বোহেমিয়ান বলতে যা বোঝায় কবি কমলেশ রাহারায় ঠিক তেমনই ছিলেন। অনেকের মধ্যে আমিও তাঁর স্নেহ এবং প্রশ্রয় পেয়েছি, এটা একপ্রকার প্রাপ্তিই বলা যায়। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন পাঠক মনে, তাঁর অনন্ত কবিতার জন্য। যিনি অনায়াসেই বলতে পারেন –

"আমি চলে যাবো স্মৃতির নির্যাস নিয়ে আরো দূর পথে"

সত্যি সত্যিই এই পথ এতটাই দূর যে চাইলেও সেখান থেকে আর কোনও ভাবেই ফিরে আসা সম্ভব নয়। এক অনন্ত নক্ষত্রের পথযাত্রী কবি কমলেশ রাহারায়।




অ রু ণা ভ   রা হা রা য়

বাবা 

আমার বয়স যখন ৬/৭, ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠেই দেখতাম আমার বাবা টেবিলে ঝুঁকে খসখস করে কিছু লিখছে। ওই বয়সে কৌতূহল হত যে তিনি কী লিখছেন ? কিছুটা বড় হলে জেনেছি বাবা কবিতা লেখে। বাবার টেবিলে ছড়িয়ে থাকত খোলা কলম, পাকানো প্রুফ সিট এবং অসমাপ্ত কবিতার পাণ্ডুলিপি। এই দৃশ্যই কম বয়সে আমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কবিতার কাছে !

বাবা রবিঠাকুরের কবিতা মুখস্থ করিয়ে দিতেন। বাড়িতে কিনে আনতেন কবিতার আবৃত্তির ক্যাসেট। তার সংগ্রহে নানা বই। সেইসব বই আমি ছোটবেলায় উল্টেপাল্টে দেখতাম। তবে পড়তাম না। কিন্তু ভালো বইয়ের কাছাকাছি থাকার জন্য আমার মন কিছুটা সাহিত্যমুখি হয়ে পড়ে। আমার সাহিত্যের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা বাবার কাছ থেকে পাওয়া। 

কখনও ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের ছড়ার বই এনে দিত। সন্ধেবেলায় বাবার সঙ্গে বসে নন্টে ফন্টে দেখতাম আর মুড়ি খেতাম। মুড়ির মধ্যে খেজুরের গুড়ের একটা টুকরো। প্রতিবার কোচবিহারের রাসমেলায় নিয়ে যেতেন বাবা। পিপলস স্টুডিয়োর মোড় থেকে বাস ধরে বাবার সঙ্গে পৌঁছে যেতাম রাজার শহরে। তারপর সোজা মদনমোহন বাড়ি। সারাদিন ঘোরাঘুরি তারপর একটা দোকানে বসে ঢাকাই পুরি খাওয়া। 

যখন হাসপাতাল আবাসনে থাকতাম সামনেই ছিল বিশাল বড় মাঠ। বর্ষাকালের কাদায় সেই মাঠে ফুটবল খেলতে নামতাম। বাবা অফিস থেকে ফেরার আগেই হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসতাম। কিন্তু ভাল মতো ধোওয়া হয়নি বলে পায়ে লেগে থাকা কাদা শুকনো-সাদা হয়ে যেত ! বাবা জিগ্যেস করলে বলতাম পাউডার মেখেছি। আর তখনই বাথরুমে নিয়ে গিয়ে সাবান দিয়ে আমার পা ধুয়ে দিত বাবা !  এ সব কথাই এখন বেশি মনে পড়ে।

প্রতিবার বর্ষাকালে কালজানি নদীর জল বেড়েছে কিনা বাবার সঙ্গে দেখতে যেতাম বাঁধে। কত মানুষের সঙ্গে দেখা হত। অনেকে তখন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খোঁজখবর নিত বাবা। পাশেই বড় বাজার। সেখানেও যেতাম। লঙ্কা কেনার আগে জ্বিভে লাগিয়ে দেখত ঝাল আছে কিনা। তারপর রসিক দোকানদারের থেকে চিনি কেনার সময় জানতে চাইত সেই চিনি পাকিস্তান থেকে এসেছে কিনা। উল্টোদিকে নিরঞ্জন কাকুর দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরাত। তারপর দাঁড়ি কাটতে বসত পরিমল কাকুর সেলুনে। আজ দেড় দশক হয়ে গেল নিরঞ্জন কাকু, পরিমল কাকুদের সঙ্গে দেখা হয় না।

বাবা আমার মন গঠন করে দিয়েছিল। আরেকটু বড় হলে কবিতা লিখতে শুরু করি। তখন ক্লাস টেন। একটা কবিতা লিখে বাবাকে দেখালাম। আমার সেই কবিতায় 'মর্ত' বলে একটি শব্দ ছিল, বাবার কথায় যা নাকি ভীষণ 'বেমানান'। কিন্তু কেন বেমানান ? প্রশ্ন জেগেছিল আমার মনে। পরে কবিতায় শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে আমি আরও বেশি যত্নবান হতে চেষ্টা করেছি। বাবার একটা কবিতার লাইন মনে পড়ছে। 'আমি বৃষ্টি দিচ্ছি, তুমি অস্ত্র ধুয়ে নাও'। অস্ত্র ধোওয়ার জন্য যে বৃষ্টির জল অনিবার্য হতে পারে এই লাইন থেকেই ধারণা হয়। কিন্তু এ লাইনে কোথাও জল শব্দটা নেই! 'জল'কে গোপন করে বৃষ্টি দিয়ে কি সুন্দর অস্ত্র ধোওয়ার প্রসঙ্গটি এল। যা আমাকে আজও ভাবায়।

এই কবিতাটি বাবার কণ্ঠে আমি প্রথম শুনি কলকাতার সোদপুরে বসে। আমি তখন নাইনে পড়ি। আমরা তখন আলিপুরদুয়ার নিউটাউনে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। বাবা সেবার লিটল ম্যাগাজিন মেলায় ডাক পেয়েছিল। আমিও সঙ্গে গিয়েছিলাম। আমরা উঠেছিলাম বাবার সহকর্মী রতন পালের বাড়িতে, সোদপুরে। রতন কাকু কবিতাপ্রেমী। বাবা তাই কবিতাটি পাঠ করে শোনাচ্ছিল তাঁকে। আমি পাশে বসে শুনেছিলাম। সেবার নন্দন চত্বরে লিটল ম্যাগাজিন মেলা দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। এত মানুষ লিটল ম্যাগাজিনকে ভালবেসে মেলায় আসে বুঝি! তার আগে এ বিষয়ে আমার কোনও ধারণাই ছিল না। 

বাবার সঙ্গে কাটানো বহু সোনালি মুহূর্ত মনে আসছে। আগামীদিনে বিস্তারিত লিখব। আমি বিশ্বাস করি বাবা সব সময় আমার সঙ্গে থাকবেন।



স ম্পা দ কে র    ক থা

কবির শহর আলিপুরদুয়ার । এখানকার আলো-বাতাসে মিশে থাকে কবিতার মাদক । কত প্রতিভাবান কবি ভালোভালো কবিতা লিখেও কোনদিন প্রচারের আলোতেই এলেন না । তাঁদের সাথে আমার কোনো সাক্ষাতই হলো না। তবে আমার সৌভাগ্য যে আমি কবি কমলেশ রাহারায়ের স্নেহ পেয়েছি অনেকবার। এত হাসিখুশি আর প্রাণময় মানুষ খুব কমই হয়। অরুণাভ আমার বন্ধু, আলিপুরে কোথাও দেখা হয়ে গেলেই সে পাকড়াও করে নিয়ে যেত বাড়িতে । সেখানেই কবির সাথে দেখা। কতবার নিজ হাতে মিষ্টি এনে খাইয়েছেন । কবিতা পড়ে শুনিয়েছেন । অরুনাভ ওঘরে  বা বারন্দায় গেলে অরুণাভর পুরস্কারের স্মারকগুলো কত স্নেহের সাথে দেখাতেন । একজন পিতা ও কবির পাশাপাশি উপস্থিতি  দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতাম । 

আজ চা-পাতা'র এই শততম সংখ্যাটি কবি কমলেশ রাহারায়কে উৎসর্গ করলাম ।  



মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চা- পাতা ৯৩

চা-পাতা ৯১