চা - পাতা ৯৬

 



ম্পাকী

'অভাবে স্বভাব নষ্ট' কথাটা সেই বাচ্চাবেলা থেকে শুনে আসছি কিন্তু আজ অব্দি অভাবে কারো স্বভাব নষ্ট হয়েছে এমন দেখিনি। 'অর্থই অনর্থের মূল' বরং এই শব্দটাই বারবার সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অভাব জীবনকে একটা গণ্ডী বেঁধে  দেয়।  বাবা তার সন্তানকে সাধারণ দিস্তা এনে দিয়ে বলে 'অহেতুক কাগজ নষ্ট করবি না, সাবধানে লিখবি। ছোট - ছোট সুন্দর করে লিখবি।' সেই অভাবী বাপের সন্তানের নতুন করে আর হাতের লেখার ক্লাসে যেতে হয় না। ভাতকে অন্ন লিখে অন্যভাবে খেতে শিখে নেয় সে । বাড়ি মানে বস্তুভান্ডার নয় সেটাও সে জানে। যতটা কম দ্রব্য ব্যবহার করে বেঁচে থাকা যায় সেটা সে প্র‍্যাকটিস করে অনবরত।

একটা পোশাক দিয়ে আপনারা দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতেই পারেন কিন্তু দশটা কিনে জিনিসের দামটা  বাড়িয়ে তোলেন মাত্র।  যার ফলে সাধারণেরা কিনতে পারেনা কারণ তারা গরীব।  অথচ আপনারাই শিক্ষায় দীক্ষায় এগিয়ে আছেন। আপনারা হেঁটে যাওয়ার পথটুকুও হাঁটেন না বলে প্রকৃতিতে এত দূষণ।  আবার আপনারাই সেমিনারে এইসব আলোচনায় গলা কাঁপান বারবার। তাই প্রকৃতি বিজ্ঞান পড়েনি যারা তারাই প্রকৃতি হয়ে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে যাচ্ছে আজন্মকাল।
-----------------------------------------------


কবিতা

সুবীর সরকার

গল্প

অথচ লাইটার নিঃসঙ্গ হলে কেমন কেঁপে কেঁপে উঠি
সমস্ত জীবন একটু ছায়া খুঁজেছি।
সুপুরিগাছের একটা মায়া থাকে!
উনুন, আগুন, রান্নাঘর, পিঁড়ি ও শীতলপাটি
জীবনের গল্পে বেশ জুড়ে বসলে
কামনা করি কাম ও কলহ
অথচ লন্ঠন নির্জন হলে দেখি
কাদো পন্থে অনন্ত গাড়িয়াল।

-----------------------------------------------

পিয়াংকী 

আমাদের অরক্ষিত প্রত্নস্থানে মির্জা স্বয়ং 


ঘরময় এত দড়ি কেন ? কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমায়? আমি কি দুয়ার পার করে এসেছি ?


 নম্রমুখ থেকে এই যে চলতিপথ  তা তো এক বরফগলাজল পুষ্ট নদী ছাড়া কিছু নয়। কোনো এক নরমসন্ধ্যায় বারান্দায় এসে গা ঘেঁষে বসা গোধূলি এখন প্রাপ্তবয়স্ক। এদের সকলের পাশে একটা করে নির্ধারিত জানালা। বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম কোণ বরাবর একটা সবুজ জুঁই, অঘ্রাণ হেমন্ত আর সদ্যস্নাত শিশির...  টুপটাপ নাকি পতন কোনটিতে এ্ররা বিস্তারিতভাবে জড়িত এটুকু ভাবতে ভাবতেই রোদ এসে পড়ছে শরীরের সবকটা উপত্যকায়। হেঁটে চলেছি তুমি আমি। এক অদৃশ্য গিঁট আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে ধুলোবালিসংলাপ। প্রতিটি পা ফেলবার আগে আমাদের কি বুঝে নেওয়া উচিত ছিল না মাটির সহনক্ষমতা ? একবার কি আলতো হাতে ছুঁয়ে দেওয়া উচিত ছিল না ওর সমস্ত অরক্ষিত প্রত্নস্থান ?


 করিনি। এগিয়েই গেছি শুধু। এগোনোর সময়গুলোতে গাছগাছড়ার সাথে এই যে প্রতিবেশী লালন তা তো শুধুই পড়ে থাকা কয়েকমুঠ বালি। শুধু বালিই বা কেন বলি বরং বলা উচিত নুড়িপাথরমাখা রিক্ততা, আসলে কিভাবে যেন আমরা  অভিযোজিত হতে হতে নিজেরাই একটা সময় অবশেষ মালভূমি... 


 উল্টোনো চাঁদ। প্রায় মিইয়ে আসা যাবতীয় পার্বণ,যেখানে রাতের নক্ষত্র ঘুমিয়ে পড়েছে এক চিলতে মেঘ খুঁজে অথবা ভোরের পাখি গাঢ়নির্জন হয়ে গেছে অন্ধত্ব জিইয়ে রেখে। তুমি আমি শুধুমাত্র চাঁদের  আয়তন হয়ে থেকে গেছি  অস্তিত্বে হাঁটব বলে। আজকাল  তোমার উচ্চতা বৃদ্ধি হয় না আর, আমিও আর মিঞা -কি -মল্লার সাধি না গলায়। এবড়োখেবড়ো হয়ে আসা চৌহদ্দিতে বাজারের পরিসংখ্যান আর চোদ্দকথা গুণতে গুণতে সূর্য অস্ত যায়। ষোলকলা পূর্ণ হবার প্রান্তিক মুহূর্তে এসে দেখি নদীর ওপারের মহল্লা থেকে ভেসে আসছে গালিব __

" উমর ভর গালিব ওহি গলতি করতা রাহা 

ধুল চেহরে পর থি ঔর আয়না সাফ করতা রাহা"


----------------------------------------------


তনয় সাহা

মেহেফিল


ধরুন আপনি একজন সাধারণ নাগরিক
কিন্তু ইদানিং এক-দুটি শব্দ লিখে
আপনি রাজনৈতিক হয়ে উঠতে পারেন -
যেমন দুয়ারে, অনুপ্রেরণায়...

আবার ধরুন আপনি একজন নিরীহ মানুষ
কিন্তু ইদানিং এক-দুটি শব্দ লিখলেই
লোকেরা আপনাকে প্রতিবাদী বলে উঠতে পারে -
যেমন উপার্জন, ভাত...

থাক বাদ দিন এসব কথা
এখন শীত
চলুন, এই অবেলায় একটা মেহেফিল হয়ে যাক -
আপনি, আমি আর কবিতা

-----------------------------------------------


অনিমেষ
ইজহার

ফিরতি পথ আর ডাক দিচ্ছে একটা শেকল। পা জড়িয়ে পড়ছে আকস্মিক আঘাতে। সমস্ত শ্লোগান ভুলে যারা এসে দাঁড়িয়েছে আমার ছাতার তলায় তাদের জন্য এখন আমি শূন্য। আমার থেকেই শুরু হচ্ছে যাবতীয় গদ্য আর আমার পরেই শেষ হচ্ছে আমিতে। এরমাঝে ব্যথা বাড়ে, চূড়ান্ত বিভেদে পিছিয়ে পড়ি। এখানে ধৈর্য্য কম। আমি যাকে লিখতে চাই তাকে দুইলাইন শব্দ ধার দিয়ে, নিজেকে লিখতে শুরু করি। এতদূর পর্যন্ত সব ঠিক তারপর ! এখন রাশি রাশি দুঃস্বপ্ন ভর করছে । একক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নেমে আসছে খিদে পেটে কবি। কবির রান্নাঘর আর আমার ডায়নিং হল দুটোতেই লাগোয়া বেডরুম। পাহাড় জানে শূন্যতা একটা কসমিক ফোর্স। রেডিয়েশন ক্যারি করতে করতে ভ্যালুয়েশন কমে আসে। ধৈর্য্য বরাবর সাফিসিয়েন্ট, আর সেখানে চটজলদি আমাদের উদারতা ক্ষীণ হয়ে আসছে। আমার জন্য বরাদ্দ হচ্ছে একা একা পথ, একা একা হাসি, একা একা পথ হাঁটা। এখানে সবটুকু নির্মেদ আর নির্মোহ । তোমার অগুনতি শ্রোতাদের ভিড়ে জড়িয়ে পড়ছি। ডাকছি কিন্তু সাড়া পাচ্ছি কই ! তোমাকে ছুঁতে পারছি কই ! ...


-----------------------------------------------


চন্দ্রাণী গোস্বামী
অপেক্ষা

আদমের আদিম গুহায় আমি
সবার আগে কবর দিয়েছি শ্রবণ ইন্দ্রিয়
যেখানে আমি ভালোবাসতাম ঈশ্বরের সুর।

সেই ঈশ্বরের কসম, আমার প্রতি পদক্ষেপে
তিনি এখন মাছ কিংবা মক্ষি হয়ে যান ...

আর আমি কুরবানী করি আমার জানুর ভেতর
দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন, ঈশ্বরের মৃতদেহের
উপরে রাখি নিহত আদিম গহ্বর ...

তারপর সুর করে প্রার্থনা করে সূর্য ওঠার আগেই
সূর্যের নামেই শুরু করি এই জানাজা।

জানি সূর্যই একদিন মঙ্গলময় করবে গুহার ভেতরের জাহান্নাম।

তদ্দিন আমি নাহয়
এক চিরঞ্জীব নক্ষত্রের আলো,
মেঘের মুখ, ধুলোমাটির মায়া ,
একমুখ হাসি, একমুঠো ফুল
আর অপেক্ষা ...
                    ---একটা মায়ামুখ ভ্রূণের।


-----------------------------------------------

পৌলোমী সরকার

মায়া প্রবঞ্চক

পৌষের ভোর না দেখলে জানাই হতো না হিমুর ডাক নাম শিশির,
কিংবা
শিশিরবাবুকেই এতদিন হেমন্ত নামে ডেকেছি ...
আসলে,
নামসংকীর্তনের ভেতর একজোড়া মায়া থাকে
শীতলপাটির মতো যত্নে বোনা
সূর্য না ওঠা ভোরে গায়ের ওম টেনে নিতে নিতে
বারবার ভুল হয়েছে শিশিরবাবু, হেমন্তদা, কার্তিক ভাই- 
কে বেশি প্রবঞ্চক !
  
আমার অফিসিয়াল নেম মায়া


-------------------------------------------------

সাগরিকা কর্মকার

রোদের গল্প
     
দূরত্ব কতদূর তোমার-আমার ?

স্ব-ভাবনায় বেশ আছ, যেমনটি ছিলে,
বই খোলা রেখে যখন ঘুমিয়ে পড়ো
 ছুঁয়ে যায়
আমার ঠান্ডা হাত, তোমার ঘুম চোখ।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বুক চেপে কাঁদো যদি
দুচোখের কোণে জল তখন আমারও।
কুয়াশাচ্ছন্ন চোখ, কর্মব্যস্ত জীবন তোমার,
আর আমি রোদের গল্প করে যাই  

অবুঝ মনে ।।


............................................................


চা - পাতা (সাপ্তাহিক)

চতুর্থ বর্ষ  *  সংখ্যা - ৯৬

প্রচ্ছদ - দেবমিত্রা চৌধুরী

সম্পাদনা- তাপস দাস

.........................................................................





  

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চা- পাতা ৯৩

চা-পাতা ৯১

চা- পাতা ৯২